📌 বিশ্ব পর্যটন দিবসে (২৭ সেপ্টেম্বর) এআইয়ের মাধ্যমে পর্যটন খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যটকদের সেবা প্রদানে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার সর্বনিম্ন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে বাংলাদেশ ১০৯তম স্থানে, যেখানে ভারত ৩৯তম। এআই ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন খাতের তথ্য ঘাটতি ও প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়ার সমস্যা সমাধান করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে
বিশ্ব পর্যটন দিবসের (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’-এ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই পিছিয়ে। এআইয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য হোটেল বুকিং, ভ্রমণসূচি, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় তথ্য সরবরাহের সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ এখনও তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় পিছিয়ে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (টিটিডিআই) ২০২৪ অনুযায়ী, ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম — এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬**: ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে, প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’।
- 📌 **বাংলাদেশের অবস্থান**: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের টিটিডিআই ২০২৪-এ ১১৯টি দেশের মধ্যে ১০৯তম, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
- 📌 **স্কোর তুলনা**: ৭ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩.১৯, যা দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের চেয়ে কম। ভারত (৩৯তম), পাকিস্তান (১০১তম), নেপাল (১০৫তম) ও শ্রীলঙ্কা (৭৬তম) বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে।
- 📌 **প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া**: পর্যটন খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সক্ষমতায় বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে। এআই ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।
- 📌 **বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের পরিকল্পনা**: একটি পর্যটনকেন্দ্রে ক্লিক করলেই সেখানে যাওয়ার উপায়, আবহাওয়া, থাকার ব্যবস্থা, বুকিং, দর্শনীয় স্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে — এআইয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
- 📌 **বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য**: সুন্দরবন ও সেন্ট মার্টিনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পর্যটকের চাপ ও পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’-এ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই পিছিয়ে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (টিটিডিআই) ২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১১৯টি দেশের মধ্যে ১০৯তম স্থানে রয়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন অবস্থানে। ৭ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৩.১৯, যা দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের চেয়ে কম। ভারত (৩৯তম), পাকিস্তান (১০১তম), নেপাল (১০৫তম) ও শ্রীলঙ্কা (৭৬তম) বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
টিটিডিআই সূচকে বিবেচিত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ব্যবসার পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, মানবসম্পদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো, পর্যটনসেবা, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং টেকসই পর্যটনসহ ১৭টি বিষয়। বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান ২০২৪ সালে ১০৯তম, যেখানে ২০২১ সালে ১০০তম অবস্থানে ছিল। তবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। বাংলাদেশ সর্বশেষ ভালো করেছে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ বিভাগে, কিন্তু টেকসই উন্নয়নে সব দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন স্কোর পেয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেছেন, একটি পর্যটনকেন্দ্রে ক্লিক করলেই সেখানে যাওয়ার উপায়, আবহাওয়া, থাকার ব্যবস্থা, বুকিং, দর্শনীয় স্থান, ইতিহাস ও আশপাশের তথ্য পাওয়া যাবে, এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এআইয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ে এসব তথ্য দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ খাতের বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যটন খাতের তথ্যব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতির কারণে খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই সমস্যা আরও বেড়েছে। গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে এআইভিত্তিক জাতীয় পর্যটন ‘ড্যাশবোর্ড’ তৈরির প্রয়োজন।
"এআইয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ে পর্যটকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে জাতীয় পর্যায়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সামীমুজ্জামান (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৯ (বাংলাদেশের টিটিডিআই অবস্থান), ৩.১৯ (স্কোর), ১১৯ (মোট দেশ), ১৯ (এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ), ২৭ (সেপ্টেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!