📌 টাঙ্গাইল নাগরপুরের একই আঙিনায় ৬৪ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দিরে ধর্মচর্চা চলছে। হিন্দু ও মুসলমানরা একে অপরের ধর্মচর্চায় সহযোগিতা করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে মুক্ত এই এলাকায় ধর্মীয় সহাবস্থানের বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছে
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় একই মাঠের পশ্চিমাংশে মসজিদ ও পূর্বাংশে মন্দির অবস্থিত। এই বিরল ধর্মীয় সহাবস্থান ৬৪ বছর ধরে চলছে, যেখানে হিন্দু ও মুসলমানরা একে অপরের ধর্মচর্চায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে মুক্ত এই এলাকায় ধর্মীয় সহাবস্থানের বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৪ বছর ধরে একই মাঠে মসজিদ ও মন্দিরে ধর্মচর্চা চলছে টাঙ্গাইল নাগরপুরের চৌধুরী বাড়িতে
- 📌 ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত দুর্গা মন্দিরের পাশেই ১৯৬২ সালে নির্মিত মসজিদ — একই আঙিনায় ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে
- 📌 নামাজ ও আজানের সময় পূজা বন্ধ, পূজা চলার সময় নামাজ ছাড়া কোনো ইসলামি কার্যক্রম বন্ধ — এই নিয়ম অনুসরণ করে চলছে দুই ধর্মের অনুসারীরা
- 📌 এলাকার ১২টি ইউনিয়নে ১৩৯টি মণ্ডপে এই বছর দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের একত্রিত অংশগ্রহণ
- 📌 মসজিদের ইমাম মুফতি হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘এখানে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থান বাংলাদেশে নজির’
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে (১৯৩২/১৯৩৩ সাল) শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র দাসয়ো প্রতিষ্ঠা করেন ওঁঝা ঠাকুর ও হরনাথ স্মৃতি কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬২ সালে মন্দিরের পশ্চিমাংশে নির্মিত হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এই বিরল ধর্মীয় সহাবস্থানে কখনোই সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব বা সহিংসতা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূজা-অর্চনা চলাকালীন ঢাক-ঢোল-কাঁসর ও উচ্চশব্দের বাজনা থেমে যায় আজানের সাথে সাথে। নামাজ শেষ হওয়ার পর আবার মন্দিরের ঢাক-ঢোল-কাঁসর বাজতে থাকে। এই নিয়ম অনুসরণ করে চলেছে এলাকার হিন্দু ও মুসলমানরা। প্রতিমা দর্শনে আগতরা বেশিরভাগ সময় মসজিদের আঙিনায় অবস্থান করেন।
মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব মুফতি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আজান দেয়ার আগেই ঢোল বাজনা বন্ধ রাখা হয়। তখন বোঝার উপায় নেই যে আগে পূজা চলছিল। একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থান বাংলাদেশে নজির স্থাপন করেছে। এখানে এখন পর্যন্ত কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি হয়নি।’
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শিব শংকর সূত্র ধর জানান, এই বছর নাগরপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে ১৩৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। উভয় ধর্মের অনুসারীরা একে অপরের মসজিদ-মন্দিরের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুগের পর যুগ ধরে কাজ করে আসছে।
"এখানে কখনো কোনো সহিংসতা হয়নি। দুই ধর্মের লোকদের মাঝে ধর্ম পালন নিয়ে কোনো বিরোধিতা সৃষ্টি হয়নি। ইসলাম ধর্মের মানুষ তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। নামাজ ও আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চৌধুরী বাড়ি, নাগরপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরেশ চন্দ্র, শৈলেশ চন্দ্র দাসয়ো, মুফতি হুমায়ুন কবীর, শিব শংকর সূত্র ধর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ বছর (সহাবস্থান), ১২ ইউনিয়ন, ১৩৯ মণ্ডপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!