📌 বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতায় ৬২ লাখ প্রবীণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ জানান, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে আরও যোগ্য প্রবীণদের সুবিধা পৌঁছাতে চেষ্টা চলছে। নারীদের জন্য বয়সসীমা ৬০ বছর এবং পুরুষদের জন্য ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে
বাংলাদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৬২ লাখ নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেছেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও কিছু যোগ্য প্রবীণ বয়স্ক ভাতার আওতার বাইরে রয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরও সুবিধা পৌঁছানো হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বর্তমানে ৬২ লাখ প্রবীণ (৬০ লাখ থেকে ২ লাখ বৃদ্ধি) বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, যার মধ্যে নারীদের জন্য বয়সসীমা ৬০ বছর এবং পুরুষদের জন্য ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে ৬১ লাখ থেকে ৬২ লাখে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও, আরও ১ লাখেরও বেশি যোগ্য প্রবীণের আবেদন বাস্তবায়ন হয়নি
- 📌 বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 প্রবীণদের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা রয়েছে, রেল ও মেট্রোরেলসহ গণপরিবহনে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে
- 📌 সরকার প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ যাতায়াত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেছেন, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। একসময় ৬০ লাখ প্রবীণ এ সুবিধা পেতেন, পরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি বছরে আরও এক লাখ মানুষকে যুক্ত করার মাধ্যমে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ প্রবীণ বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। তবে নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেও সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পান না। আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
সচিব বলেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু আবেদন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বাজেট সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য ব্যক্তিকে কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তায় বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এ ভাতা সহায়তা করছে। একই সঙ্গে পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং তাদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়বে। তাই তাদের সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
"প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোয় প্রবীণদের সম্মান ও দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ লাখ (বর্তমান উপকারভোগী), ৬০ লাখ (প্রাক্তন উপকারভোগী), ৬১ লাখ (পূর্ববর্তী বছর), ৬০ বছর (নারীদের বয়সসীমা), ৬৫ বছর (পুরুষদের বয়সসীমা), ২৫ শতাংশ (পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সুবিধা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!