📌 বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ প্রামাণিক (৭৭) ১৯৬৬ সালে ২৮০ টাকায় কেনা ৬০ বছরের পুরোনো সাইকেলটি এখনো নিয়মিত চালান। রাজশাহীর বাগমারা থেকে প্রতিদিন ১২-১৫ কিলোমিটার সাইকেলে যাতায়াত করে তিনি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখেন। সাইকেলটি তার জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ প্রামাণিক (৭৭) ৬০ বছর আগে কেনা সাইকেলটি এখনো তার জীবনের সঙ্গী। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার সাইকেলে চলাচল করে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখেন। ১৯৬৬ সালে মাত্র ২৮০ টাকায় কেনা এই ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের সাইকেলটি এখনো সচল অবস্থায় রয়েছে এবং তার জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ প্রামাণিক (৭৭) ৬০ বছর আগে কেনা সাইকেলটি এখনো নিয়মিত চালান
- 📌 ১৯৬৬ সালে ২৮০ টাকায় কেনা ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের সাইকেলটি এখনো সচল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ব্যবহার করা হয়েছিল
- 📌 প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার সাইকেলে চলাচল করে তিনি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখেন
- 📌 সাইকেলটি তার জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে, নিজের শরীরের মতো যত্ন নেন
- 📌 স্থানীয়রা তাকে ‘সামাদ প্রফেসর’ নামে চেনেন, এলাকায় সবাই তাঁকে এই একই সাইকেলে দেখে আসছেন
📰 বিস্তারিত
বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ প্রামাণিক (৭৭) ১৯৬৬ সালে পরিবার তাঁকে মাত্র ২৮০ টাকায় ইংল্যান্ডের ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের একটি বাইসাইকেল কিনে দেয়। সেই সাইকেলটি আজও সচল এবং তিনি নিয়মিত ব্যবহার করছেন। সামাদ প্রামাণিক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি সাইকেলটি বাড়িতে রেখে যুদ্ধে যোগ দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে তিনি সাইকেলটি আবার ব্যবহার শুরু করেন।
১৯৭৩ সালে তিনি সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৭৭ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি প্রতিদিন বাড়ি থেকে কলেজে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ সাইকেলে করতেন। অবসরের পরও তিনি সাইকেল চালানোর অভ্যাস ছেড়ে দেননি। এখনো প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার সাইকেলে চলাচল করেন তিনি।
সামাদ প্রামাণিকের সাইকেলটির যন্ত্রাংশ কয়েকবার বদলাতে হয়েছে। তিনি র্যালির নিজস্ব যন্ত্রাংশ লাগানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেসব না পাওয়ায় ভালো মানের অন্য যন্ত্রাংশ ও টিউব লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাইসাইকেল চালাতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। এই বয়সেও যে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছি, এর বড় অবদান নিয়মিত সাইকেল চালানো। এটা এখন আর শুধু যান নয়, আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো। নিজের শরীরের মতো সাইকেলেরও নিয়মিত যত্ন নিই। এর প্রতি গভীর মায়া জন্মে গেছে।’
"বাইসাইকেল চালাতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। এই বয়সেও যে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছি, এর বড় অবদান নিয়মিত সাইকেল চালানো। এটা এখন আর শুধু যান নয়, আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতো। নিজের শরীরের মতো সাইকেলেরও নিয়মিত যত্ন নিই। এর প্রতি গভীর মায়া জন্মে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা, নাজিরপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুস সামাদ প্রামাণিক (৭৭), বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (সাইকেলের বয়স), ২৮০ টাকা (সাইকেলের মূল্য), ১২-১৫ কিলোমিটার (দৈনিক সাইকেল চলাচল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!