📌 চট্টগ্রামের ষোলশহরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ৫৫তম জশনে জুলুসে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকাটি। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলেন
চট্টগ্রামের ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া ৫৫তম জশনে জুলুসে লাখো মুসল্লি অংশ নেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ট্রাক-পিকআপ ও হেঁটে জুলুসের উদ্দেশ্যে ষোলশহর ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয় ৫৫তম জশনে জুলুস, অংশ নেন লাখো মুসল্লি
- 📌 ১৯৭৪ সাল থেকে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হচ্ছে এই জুলুস
- 📌 জুলুসের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ; অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ
- 📌 জুলুসের পথে ভাসমান মেলা ও বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হয়
- 📌 নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হওয়া জশনে জুলুসে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ জুলুসে অংশ নিতে আসতে থাকেন। কেউ হেঁটে, কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে পৌঁছান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।
জুলুসের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুর। মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসানো ভাসমান মেলায় বিক্রি হয় আঁতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, গামছা, তোয়ালে, পাজামা, পাঞ্জাবি, জুলুসের পতাকা ও খাবারসহ বিভিন্ন সামগ্রী। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মুসল্লিদের জন্য পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হয়।
জুলুসের পুরো পথ সাজানো হয়েছে সবুজ পতাকা ও নানা রঙের সাজসজ্জায়। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকে স্থাপন করা হয়েছে বড় বড় তোরণ, আনজুমানের পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার। জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার।
নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, জুলুসটি আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন জুলুস ময়দানে গিয়ে সমবেত হওয়ার কথা ছিল।
গত বছর চট্টগ্রাম নগরে আয়োজিত জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু ও অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনার পর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তায়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
"জশনে জুলুসের মতো বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের বড় দায়িত্ব। শৃঙ্খলা বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের ষোলশহর ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ, সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ, শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫তম আয়োজন, সকাল সাড়ে ৯টা, দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!