📌 বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে ৪৪ বিশিষ্ট নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে সেই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন
বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা দাবি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর উক্ত বক্তব্য সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আদিবাসী অস্তিত্ব অস্বীকার করে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৪৪ বিশিষ্ট নাগরিক
- 📌 বিবৃতিতে বলা হয়, আদিবাসী পরিচয় ও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পরস্পরবিরোধী নয়
- 📌 সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-তে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১০৭ অনুসমর্থন করেছে, যা আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক
- 📌 বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা অবিলম্বে সেই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দুই মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই এবং সকল নাগরিককে কেবল বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, আদিবাসী পরিচয় ও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পরস্পরবিরোধী নয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠী একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি এবং স্বতন্ত্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-তে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ফলে মন্ত্রীদের বক্তব্য সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থন না করলেও ১৯৫৭ সালের আইএলও কনভেনশন ১০৭ অনুসমর্থন করেছে, যা আইনত বাধ্যতামূলক। ফলে আদিবাসীদের আত্মপরিচয় ও ভূমির অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা রয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচিত বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে ‘রেইনবো নেশনে’ রূপান্তরের অঙ্গীকার করা হয়েছে। দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী না থাকলে কিসের ভিত্তিতে এই অঙ্গীকার করা হয়েছিল তা প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়।
"দেশে আদিবাসী নেই—এই তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিল পতিত স্বৈরশাসক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে অর্জিত গণতান্ত্রিক সরকারের মুখে পতিত সরকারের উদ্ভট তত্ত্বের বুলি মানায় না। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই অবিলম্বে তাঁদের এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), জহির উদ্দিন স্বপন (তথ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪ (বিশিষ্ট নাগরিক), ২৩(ক) (সংবিধানের অনুচ্ছেদ), ১০৭ (আইএলও কনভেনশন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!