📌 প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এ বছরই ৪০ লাখ কৃষককে ফার্মার্স কার্ড পৌঁছে দেবেন। তিনি রাজশাহীর জনসভায় কৃষকদের সেচসুবিধা, ঋণ সুদমুক্তি, বীমা ও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ঘোষণা দেন, এ বছরই দেশের ৪০ লাখ কৃষককে ফার্মার্স কার্ড বা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেবেন। তিনি কৃষকদের জন্য নানা সুবিধা ও প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ দেন, যার মধ্যে রয়েছে কৃষিঋণ সুদমুক্তি, সেচসুবিধা, বীমা ও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪০ লাখ কৃষককে এ বছরই পৌঁছে দেবেন ফার্মার্স কার্ড**: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী কিছু দিনের মধ্যে কার্ড বিতরণ কাজ শেষ হবে এবং ধীরে ধীরে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- 📌 **কৃষিঋণ সুদমুক্তি**: সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
- 📌 **সেচসুবিধা নিশ্চিত**: পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
- 📌 **পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প**: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
- 📌 **উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি**: প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করা হবে।
- 📌 **৪৬টি বন্ধ কারখানা চালু**: ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬টি কারখানা উদ্যোক্তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জন্য নানা সুবিধা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই, যার নাম ফার্মার্স কার্ড বা কৃষি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বীমা করতে পারবেন, সহজে ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন এবং আবহাওয়ার তথ্য পাবেন।’ তিনি আরও জানান, ‘কোনো কৃষক বছরে দুই বা তিনটি ফসল উৎপাদন করলে অন্তত একটি ফসলের সার-বীজ এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য সেচসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এই উত্তরাঞ্চল তো দেশের শস্যভান্ডার। এখানে পানির কষ্ট হয়, অন্যখানেও হয়। শহীদ জিয়ার সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এখন আমরা সেই কাজকে আরও বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে।’ ইতিমধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা পানির সমস্যা সমাধানের জন্য যতদূর যেতে হবে, সেই চেষ্টা করব। পাশাপাশি ব্যারাজ নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।’
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সরকার। তাই প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে ৩০ বেড করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া আরও ২০ বেড বাড়িয়েছিলেন। এবার আমরা ১৫০ বেডে উন্নীত করব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। শিশুদের জন্য বেড রাখব, মা-বোনদের জন্য আলাদা বেড রাখব এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করব।’ তিনি বলেন, ‘গত জুনে উপস্থাপিত বাজেটে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে এবং হার্টের রোগীদের চিকিৎসার সরঞ্জামের ওপর কর কমানো হয়েছে।’
"আমরা প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি, যাতে আগামী মৌসুম থেকে কৃষকদের আখচাষে কষ্ট কম হয়। এই দেশের কৃষি বাঁচলে, কৃষক বাঁচলে এই দেশ বাঁচবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, মাদ্রাসামাঠ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ (কৃষক), ১০ হাজার (কৃষিঋণ), ১৩ লাখ (কৃষক), ২০ হাজার (কিলোমিটার খাল), ৮০০ (কিলোমিটার খাল), ১৫০ (শয্যা), ৫০ (বেড), ৪৬ (বন্ধ কারখানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!