📌 ৩৩৬ কোটি টাকায় কর্ণফুলী টানেলের লোকসান কমাতে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক প্রকল্প শুরু করেছে সরকার। টানেলের মাসিক লোকসান ৩ কোটি ৫৮ লাখ থেকে ৪ কোটি টাকা, যা পরিচালনার খরচের চেয়ে কম। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার যাতায়াতের সময় কমবে ৩০ মিনিট এবং টানেলের ব্যবহার বাড়বে
৩৩৬ কোটি টাকার বিনিয়োগে কর্ণফুলী টানেলের লোকসান কমাতে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এই প্রকল্পের মাধ্যমে টানেলের ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৩৬ কোটি টাকায়** কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- 📌 **মাসিক লোকসান ৩ কোটি ৫৮ লাখ থেকে ৪ কোটি টাকা** — টানেলের পরিচালনা খরচ ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, কিন্তু টোল আয় মাত্র ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
- 📌 **কক্সবাজার যাতায়াতের সময় কমবে ৩০ মিনিট** — আনোয়ারা থেকে সরাসরি চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে।
- 📌 **১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকায় নির্মিত** কর্ণফুলী টানেলে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা চীনা ঋণ।
- 📌 **প্রকল্পের আওতায়** কালাবিবির দীঘি থেকে গাছবাড়িয়া কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে।
- 📌 **২ বছরের মধ্যে** প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর উদ্বোধিত কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচের তুলনায় টোল আয় অনেক কম হওয়ায় এটি সরকারের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এই অবস্থা কাটিয়ে টানেলের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আনোয়ারা-চন্দনাইশ সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেছেন, বর্তমানে টানেল দিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য যানবাহনগুলো আনোয়ারা থেকে পটিয়া বা পেকুয়া হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে উঠতে হয়। এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্য সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড় থেকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে কালাবিবির দীঘি থেকে বরকল ব্রিজ পর্যন্ত অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮২ কোটি টাকা এবং বরকল ব্রিজ থেকে গাছবাড়িয়া কলেজ গেট পর্যন্ত অংশে ১৪৪ কোটি টাকা।
চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্মেলন সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজু বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আনোয়ারা ও চন্দনাইশের মানুষের কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল, ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং কক্সবাজারমুখী নতুন সড়ক নেটওয়ার্ক পরস্করের সঙ্গে যুক্ত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প ও বাণিজ্য সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
"বিকল্প পথে পেকুয়া হয়েও যেতে হয়। এ কারণে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো টানেল ব্যবহার করছে না। আনোয়ারা থেকে সরাসরি সড়কটি চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হলে কক্সবাজার যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় কমবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনোয়ারা, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম), কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পিন্টু চাকমা (সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী), এম এ হাশেম রাজু (বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্মেলন সমন্বয়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩৬ কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ১৭ কিলোমিটার (সড়ক দৈর্ঘ্য), ৩০ মিনিট (সময় কমবে), ৩ কোটি ৫৮ লাখ-৪ কোটি টাকা (মাসিক লোকসান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!