📌 বরগুনার পাথরঘাটায় গত ৩৩ বছরে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে তাঁদের পরিবারের জীবন অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। সরকারি সহায়তা ও উদ্ধার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় গত ৩৩ বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং উদ্ধার কার্যক্রমের দুর্বলতার কারণে তাঁদের পরিবারের জীবন অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত দুর্যোগে মোট ১৮৮ জন জেলে নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে একাই ৯১ জন জেলে সাগরে হারিয়ে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ৩৩ বছরে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের সংখ্যা ১৯২ জন
- 📌 ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে একাই ৯১ জন জেলে নিখোঁজ হন
- 📌 সর্বশেষ ২৪ আগস্ট বৈরী আবহাওয়ায় ‘এফবি বরকত’ ট্রলারডুবিতে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন
- 📌 নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলো মৃত্যু সনদ ও সরকারি সহায়তা পেতে ভোগান্তির শিকার
- 📌 জেলেদের নিরাপত্তায় ‘সেফটি সেল’ গঠনের দাবি জানানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি
📰 বিস্তারিত
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় গত তিন দশকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট ১৮৮ জন জেলে নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে একাই ৯১ জন জেলে সাগরে হারিয়ে যান। এছাড়া ১৯৯৩ সালে ৫ জন, ১৯৯৪ সালে ২ জন, ২০০১ সালে ৫ জন, ২০০৬ সালে ১৪ জন, ২০১৪ সালে ৭ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন এবং ২০২৩ সালে ১৫ জন জেলে নিখোঁজ হন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ আগস্ট বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও অন্যদের সন্ধান মেলেনি। এতে উপজেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত নিখোঁজ জেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯২ জনে।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের জীবন অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ভাই দুই সন্তান রেখে সাগরে গিয়েছিল। আর ফেরেনি। বাচ্চাগুলো সারা দিন বাবা বাবা করে কান্না করে। জীবিত আছে না মারা গেছে—এই অনিশ্চয়তায় দিন কাটে আমাদের।’
সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের নিখোঁজ জেলে কালু মাঝির মেয়ে ফাহিমা রিমু বলেন, ‘বাবা গেছে তিন বছর। প্রতিদিন মনে হয় দরজায় দাঁড়িয়ে ডাক দেবে-“মা, আইছি”। আমরা না খেয়ে দিন কাটাই। মা অসুস্থ, ওষুধ কেনারও টাকা নেই। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাই না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: ইউসুফ আলী, ইয়াকুব আলী, ফাহিমা রিমু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯২ জন জেলে নিখোঁজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!