📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার আলী আকবর ২৮ বছর ধরে সাইকেলে চিঠি বিলি করছেন। ডাক বিভাগের কর্মী হিসেবে তিনি প্রতিদিন এক পোস্ট অফিস থেকে আরেক পোস্ট অফিসে মানুষের চিঠি পৌঁছে দেন। আজ বিশ্ব ডাক দিবসে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার গল্প আলোচিত হচ্ছে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গ্রামীণ পথে প্রতিদিন সকাল সকাল সাইকেলের ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটে যান আলী আকবর। ২৮ বছর ধরে তিনি পাটের বস্তায় পূর্ণ চিঠি নিয়ে এক ডাকঘর থেকে আরেক ডাকঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘রানার আকবর’ হিসেবে তিনি ডাক বিভাগের কর্মী হিসেবে চিঠিপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন। আজ বিশ্ব ডাক দিবসের এই বিশেষ দিনে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার গল্প আলোচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৮ বছর ধরে সাইকেলে চিঠি বিলি করছেন** আলী আকবর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ডাক বিভাগের কর্মী।
- 📌 **প্রতিদিন ৪ কিলোমিটার পাড়ি দেন** তৈলার দ্বীপ শাখা ডাকঘর থেকে আনোয়ারা উপজেলা ডাকঘর পর্যন্ত।
- 📌 **সাইকেলে ১৫ মিনিটে পাড়ি দেন পাকা সড়ক**, এরপর গ্রামের রাস্তা ধরে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে।
- 📌 **২০ বছর আগে (১৯৯৯) যোগ দেন** ডাক বিভাগের ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে, স্থানীয়ভাবে ‘রানার’ নামে পরিচিত।
- 📌 **বিশ্ব ডাক দিবস (৯ অক্টোবর)** উপলক্ষে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার গল্প আলোচিত হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গ্রামীণ পথে প্রতিদিন সকাল সকাল সাইকেলের ঘণ্টা বাজিয়ে ছুটে যান আলী আকবর। তিনি ডাক বিভাগের কর্মী হিসেবে ২৮ বছর ধরে এক পোস্ট অফিস থেকে আরেক পোস্ট অফিসে মানুষের চিঠি পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ‘রানার আকবর’ নামে। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, যখন তিনি ডাক বিভাগের ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে যোগ দেন। স্থানীয়ভাবে এই পদটি ‘রানার’ নামে পরিচিত ছিল।
আলী আকবর প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়েন এবং কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। সকাল নয়টার আগেই তিনি আনোয়ারা উপজেলা ডাকঘরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি চিঠির বস্তা নিয়ে শুরু করেন প্রতিদিনের যাত্রা। প্রথম গন্তব্য হলো চার কিলোমিটার দূরের তৈলার দ্বীপ শাখা ডাকঘর। সাইকেলে পাকা সড়ক পাড়ি দিতে তাঁর লাগে ১৫ মিনিট। এরপর গ্রামের রাস্তা ধরে প্রায় আধা ঘণ্টা চলার পর তিনি তৈলার দ্বীপ ডাকঘরে পৌঁছান। এখানে তিনি পোস্টমাস্টারকে চিঠি বুঝিয়ে দেন এবং আরেকটি বস্তা নেন। এগুলো নিয়ে তিনি উপজেলা ডাকঘরে যান। এইভাবে প্রতিদিন তিনি শাখা ডাকঘর ঘুরে বেলা তিনটার দিকে উপজেলা ডাকঘরে পৌঁছান। অন্য কাজ সেরে বিকেল পাঁচটায় ফিরেন তিনি ঘরে।
আলী আকবর ২৮ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের সংসারও গড়ে তুলেছেন। এই চাকরির আয়েই তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং পরিবারের নানা প্রয়োজন মিটিয়েছেন। বড় ছেলের বয়স এখন ২০ বছর, তিনি গ্রামে ব্যবসা করছেন। মেজ ছেলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ছোট ছেলে আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন। তিনি বলেন, ‘চিঠিই হয়ে উঠেছে আমার জীবনের সঙ্গী। এক পোস্ট অফিস থেকে আরেক পোস্ট অফিসে চিঠি পৌঁছে দিতে দিতে কেটে গেছে দুই যুগের বেশি।’
"কার চিঠি, কিসের চিঠি—এসব কিছুই জানেন না তিনি। শুধু জানেন, চিঠিগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। কারণ, তিনি পৌঁছে না দিলে সংশ্লিষ্ট ডাকঘরের পোস্টম্যান সেই চিঠি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনোয়ারা উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী আকবর (ডাক বিভাগের কর্মী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর (সাইকেলে চিঠি বিলি), ১৫ মিনিট (পাকা সড়ক পাড়ি), ২০ বছর (বড় ছেলের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!