📌 বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘোলা গ্রামের ৭০ বছরের বিধবা সবুরা খাতুন ২০ বছর ধরে পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। স্বজনহীন এই বৃদ্ধার জন্য বর্তমানে বিধবা ভাতাও বন্ধ রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমাজের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘোলা গ্রামের ৭০ বছরের বিধবা সবুরা খাতুন ২০ বছর ধরে পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। স্বজনহীন এই বৃদ্ধার জীবনের শেষ আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একই ধরনের ঝুপড়ি, যেখানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে, ঝড়ে ছাউনি উড়ে যায়। বর্তমানে সরকারি বিধবা ভাতাও বন্ধ থাকায় তাঁর জীবন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০ বছর ধরে পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস** করছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘোলা গ্রামের ৭০ বছরের বিধবা সবুরা খাতুন
- 📌 **স্বজনহীন ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে** বর্তমানে তিনি ভিক্ষা করতে পারছেন না
- 📌 **গত কোরবানির ঈদের পর থেকে বিধবা ভাতা বন্ধ** হওয়ায় তাঁর জীবনযাপন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 **ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা সনিয়া বেগম** জানান, তাঁর মা সবুরাকে আশ্রয় দিয়েছেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি
- 📌 **বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার** বলেছেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে
- 📌 **উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার** শুকনো খাবার দিয়েছেন সবুরাকে, কিন্তু ঘরের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বয়স সত্তরের ঘর পেরিয়েছেন সবুরা খাতুন। একসময় ভিক্ষা করে জীবন যাপন করতেন, কিন্তু বয়স ও অসুস্থতার ভারে এখন সেই সামর্থ্যও নেই। ২০ বছর আগে স্বামী রুস্তম শেখ মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। বৃষ্টি হলে ছাউনি ভেদ করে ঘরে পানি পড়ে, রোদে পলিথিনের ঘর হয়ে ওঠে অসহনীয় গরম। ঝড়-বাতাসে উড়ে যায় ঘরের ছাউনি। নিরাপদ ঠাঁই না থাকায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ঘোলা জিবিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ছোট একটি ঝুপড়িতে বসবাস করছেন সবুরা খাতুন। চারপাশে বেড়া হিসেবে টানানো হয়েছে ছেঁড়া কাপড় ও প্লাস্টিকের বস্তা। মাথার ওপর ছেঁড়া পলিথিনের ছাউনি। সামান্য বাতাসেই সেই ছাউনি উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। চারপাশে জমে থাকে স্যাঁতসেঁতে কাদা। ঝুপড়ির ভেতরে আসবাবপত্র বলতে একটি কলসি, কয়েকটি থালা-বাটি আর অল্প কিছু কাপড়চোপড়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা কিংবা কাজকর্ম করতে পারছেন না সবুরা। উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হয় তাঁকে। ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা সনিয়া বেগম বলেন, ‘সবুরা খাতুনের নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। আমার মা তাঁকে থাকার জন্য একটু আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই তাঁকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার। তাঁরও আপনজন কেউ নেই, যাঁরা ওষুধ-পথ্য কিনে দেবেন। বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাঁর জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর প্রয়োজন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও তাঁর উপকারে এগিয়ে আসা উচিত।’
"এখন আর ভিক্ষা করতে পারি না। আপনজনও কেউ নেই। ঘরটাও ভেঙে যাচ্ছে। কীভাবে বেঁচে থাকব, জানি না।"
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সবুরা খাতুনের ব্যাপারটি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।’ চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ বজলুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতাসহ সরকারি সব ধরনের ভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। খবর পেয়ে আমি সবুরা খাতুনকে শুকনো খাবার—চাল, ডাল, আলু, লবণ ও তেল—দিয়েছি। তাঁর নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় ঘরের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঘোলা গ্রাম, চিতলমারী উপজেলা, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সবুরা খাতুন, সনিয়া বেগম, মাসুদ সরদার, শেখ বজলুর রশীদ, খাদিজা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস), ৭০ বছর (বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!