📌 ১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ভারতের মুম্বাই থেকে ছিনতাই করা জাপান এয়ারলাইন্সের বিমান ঢাকায় অবতরণ করে। ছিনতাইকারীদের ৬০ লাখ ডলার মুক্তিপণ ও ৯ জন সহযোদ্ধার মুক্তির দাবিতে ১০৫ ঘণ্টা চলে উত্তেজনাকর ঘটনা। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত ১৫১ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানো হয়
১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে যখন জাপান এয়ারলাইন্সের একটি ছিনতাই করা বিমান ঢাকায় অবতরণ করে। তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ভারতের মুম্বাই থেকে ছিনতাই করা এই বিমান ঢাকায় অবতরণের মাধ্যমে ১০৫ ঘণ্টা ৪৩ মিনিটের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ছিনতাইকারীদের ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের মুক্তিপণসহ ৯ জন সহযোদ্ধার মুক্তির দাবি পূরণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১৫১ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাই থেকে ছিনতাই করা জাপান এয়ারলাইন্সের ডিসি-৮ বিমান ঢাকায় অবতরণ করে — প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ছিনতাই করা বিমানের অবতরণ ঘটে
- 📌 ছিনতাইকারীরা ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ ও ৯ জন সহযোদ্ধার মুক্তির দাবি জানায়, বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত দাবি পূরণ হয়
- 📌 বিমানটি ঢাকার আকাশে ৪০ মিনিট ধরে চক্কর খেয়ে অবতরণ করে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবতরণে অস্বীকৃতি জানালে সরাসরি ঢাকায় অবতরণের হুমকি দেয়া হয়
- 📌 ছিনতাইকারীরা বিমানের ২০০ গজের মধ্যে কেউ প্রবেশ করলে যাত্রীদের গুলি করে হত্যা ও বিমান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়
- 📌 বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন, জাপান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যস্থতা হয়
- 📌 ছিনতাইকারীরা ১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি নিয়ে রানওয়ে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়, শেষ মুহূর্তে আলোচনা করে ঘটনাটি সমাধান হয়
📰 বিস্তারিত
১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর ৪৭২-এর ডিসি-৮ বিমানটি প্যারিস থেকে মুম্বাই হয়ে ব্যাংকক যাচ্ছিল। উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পরই বিমানটি ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইকারীরা প্রথমে ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে তারা ঢাকার আকাশে বিমানটি নিয়ে আসে। বিমানটি ঢাকার আকাশে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চক্কর খেয়ে অবতরণের চেষ্টা করে। ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমান অবতরণে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা সরাসরি জানায়, তাদের আর কোনো পথ নেই, তাই ঢাকায় অবতরণ করবে। ঘটনাটি ছিল বাংলাদেশে কোনো ছিনতাই করা বিমানের প্রথম অবতরণ।
বিমানটি ঢাকায় অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ঢাকা বিমানবন্দর বন্ধ করে ছিনতাই করা বিমানের আশপাশে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকশ সেনা মোতায়েন করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছিনতাইকারীরা হুমকি দেয়, বিমানের ২০০ গজের মধ্যে কেউ প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের গুলি করে হত্যা করা হবে এবং বিমানটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। তারা আরও দাবি জানায়, বিমানের ইঞ্জিন স্টার্টারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ চার্জ করা, বিমানের এয়ারকন্ডিশনার চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া।
ছিনতাইকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং জাপানের কারাগারে আটক তাদের ৯ জন ‘সহযোদ্ধার’ মুক্তি দাবি করে। এ ব্যাপারে জাপান সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার জন্য তারা বাংলাদেশকে অনুরোধ জানায়। ছিনতাইকারীরা প্রথমে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল দাবি মানতে। পরে তারা আরও তিন ঘণ্টা সময় বাড়ায়। আলোচনার এক পর্যায়ে দাবি মানার জন্য ১ অক্টোবর ভোররাত ৪টা পর্যন্ত এবং পরে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর আর সময় বাড়ানো হবে না বলেও তারা হুমকি দেয়। তারা বারবার বলছিল, জাপান সরকার যদি সময়সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে জিম্মিদের মেরে ফেলা হবে।
১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছিনতাইকারীরা বিমানটি নিয়ে রানওয়ে দিয়ে উত্তর দিকে এগোতে থাকে এবং বিমানটি ‘ব্লো-আপ’ করার হুমকি দেয়। ঢাকা বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ছিনতাইকারীদের বিমানটি ‘ব্লো-আপ’ না করার অনুরোধ করা হয় এবং রানওয়েতে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। শেষ মুহূর্তে আলোচনা করে ঘটনাটি সমাধান হয়।
"জাপানি সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল সরকার এবং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিমানবন্দর, মুম্বাই বিমানবন্দর, কলকাতা বিমানবন্দর, টোকিও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়াউর রহমান, এ জি মাহমুদ, ছিনতাইকারীরা, যাত্রীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৫ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট, ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, ৯ জন সহযোদ্ধা, ১৫১ জন যাত্রী, ফ্লাইট নম্বর ৪৭২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!