📌 ১৯২৪ সালে কালীগঞ্জের এক গ্রামে ঘটকমশাইয়ের বিলেতফেরত পাত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। মৃণালকান্তি দত্তের বিলেতের সার্টিফিকেট এবং ইংরেজি ভাষার দাবি সত্য কিনা তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্বিধায় পড়েন
১৯২৪ সালের কালীগঞ্জ গ্রামে ঘটকমশাইয়ের বিলেতফেরত পাত্রের সত্যতা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন হয়। ঘটকমশাই নিত্যানন্দের দাবি ছিল যে, তিনি সাত বছর লন্ডনে ছিলেন এবং সেখানে রাজা-মহারাজাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তার কথাগুলো সত্য কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘটকমশাই নিত্যানন্দ দাবি করেন, তিনি সাত বছর লন্ডনে ছিলেন এবং সেখানে ‘মিস্টার মৃণাল’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- 📌 ঘটকমশাইয়ের বিলেতের সার্টিফিকেট দেখে বাবা বলেন, ‘অক্ষরগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে খাঁটি মাল’।
- 📌 ঘটকমশাই লন্ডনের কথা বললেও কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান বা দোকানের নাম উল্লেখ করেননি, শুধু বলেছেন ‘বিশাল’, ‘সুন্দর’, ‘অপূর্ব’।
- 📌 ঘটকমশাইয়ের কথাগুলো সত্য কিনা তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেন, বিশেষত পিসিমা তার বিলেত যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
- 📌 ঘটকমশাইয়ের চোখ সরিয়ে নেওয়া এবং তার কথার সত্যতা নিয়ে অনুপমা নামের এক মেয়ের প্রথম সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
📰 বিস্তারিত
১৯২৪ সালের কালীগঞ্জ গ্রামে ঘটকমশাইয়ের বিলেতফেরত পাত্রের কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা অবাক হয়ে পড়েন। ঘটকমশাই নিত্যানন্দ দাবি করেন যে, তিনি সাত বছর লন্ডনে ছিলেন এবং সেখানে রাজা-মহারাজাদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘লন্ডন শহরে ইংরেজি বলেন স্বপ্নেও’। বাবা এই কথা শুনে খুবই আনন্দিত হন এবং বলেন, ‘সাত বছর! বিলেতে এত বছর কী করতেন?’ ঘটকমশাই উত্তর দেন, ‘পড়াশোনা, কর্তামশাই, পড়াশোনা। রাজা-মহারাজার সঙ্গে ওঠাবসা’।
ঘটকমশাইয়ের কথাগুলো শুনে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিশেষত পিসিমা তার বিলেত যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বিলেতে গিয়ে কেউ ফেরে নাকি?’ ঘটকমশাই উত্তর দেন, ‘না, না, দিদিঠাকরুন, ফেরার ইচ্ছে ছিল না। দেশের মাটির টানে ফিরেছেন। দেশপ্রেমিক মানুষ’। কিন্তু পিসিমা তার কথাগুলো বিশ্বাস করেন না এবং বলেন, ‘দেশপ্রেমিক হলে বিলেত গেল কেন?’
ঘটকমশাই পকেট থেকে একটি হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজ বের করেন এবং বলেন, ‘এই দেখুন, বিলেতের সার্টিফিকেট’। বাবা কাগজটিকে হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দেখেন এবং বলেন, ‘হুম। ভালো, ভালো। অক্ষরগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে খাঁটি মাল’। ঘটকমশাই লন্ডনের কথা বললেও কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান বা দোকানের নাম উল্লেখ করেননি, শুধু বলেছেন ‘বিশাল’, ‘সুন্দর’, ‘অপূর্ব’। অনুপমা নামের এক মেয়ের মতে, যে মানুষ কোনো জায়গা সত্যিই দেখেছে, সে ‘অপূর্ব’ বলে না; বলে ‘ওখানে বড্ড কাদা ছিল’ কিংবা ‘চায়ের দাম ছিল চড়া’।
"মিস্টার মৃণাল"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কালীগঞ্জ গ্রাম, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঘটকমশাই নিত্যানন্দ, অনুপমা, মালবিকা, ঘটকমশাইয়ের বাবা, পিসিমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাত বছর (বিলেতে থাকা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!