📌 ১৬৬১ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ও পর্তুগালের রাজকন্যা ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার বিয়ে থেকে মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে) ইংল্যান্ডের যৌতুক হিসেবে পায়। ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন ও সামরিক সহায়তার বিনিময়ে ইংল্যান্ডকে দেন এই সাতটি দ্বীপ। ইতিহাসবিদদের মতে, এই বিয়ের চুক্তি পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইংল্যান্ডের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
১৭শ শতকের রাজকীয় বিয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ও পর্তুগালের রাজকন্যা ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার বিয়ে থেকে ভারতের বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) ইংল্যান্ডের যৌতুক হিসেবে পায়। এই বিয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডকে দশ পাউন্ড ভাড়ায় দেন ব্রিটিশ রাজা এই সাতটি দ্বীপসহ বাণিজ্যিক সুবিধা, যা পরে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও চলচ্চিত্র কেন্দ্রে পরিণত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই বিয়ের চুক্তি পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইংল্যান্ডের সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করে এবং বোম্বে ইংরেজদের দখলে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬৬১ সালের ২৩শে জুন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ও পর্তুগালের রাজকন্যা ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার বিয়ে থেকে বোম্বে (মুম্বাই) ইংল্যান্ডের যৌতুক হিসেবে পায়
- 📌 বোম্বে নিয়ে আসার বিনিময়ে ইংল্যান্ড পর্তুগালকে স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক ও নৌ সহায়তা দিতে সম্মত হয়
- 📌 বিয়ের চুক্তির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বোম্বে দখল করার অনুমতি দেওয়া হয়
- 📌 ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন (প্রায় তিন লাখ পাউন্ড) ও বাণিজ্যিক সুবিধা সহ ইংল্যান্ডকে পর্তুগালের বন্দর তাঞ্জিয়ার ও ব্রাজিলের বাণিজ্যিক অধিকারও দেওয়া হয়
- 📌 ইতিহাসবিদদের মতে, এই বিয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
📰 বিস্তারিত
১৭শ শতকে বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) ছিল সাতটি ছোট দ্বীপ — কোলাবা, ওল্ড ওম্যানস আইল্যান্ড (লিটল কোলাবা), বোম্বে, মাজগাঁও, পারেল, ওরলি ও মাহিম। এই দ্বীপগুলো শতাব্দী ধরে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম শাসকদের অধীনে ছিল। ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার ভারতে আগমনের পর পর্তুগিজরা পশ্চিম উপকূলে তাদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা শুরু করে। ১৫৩৪ সালে গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ এই সাতটি দ্বীপ পর্তুগালের কাছে হস্তান্তর করেন। পর্তুগিজরা এই অঞ্চলগুলোকে তাদের ভারতীয় উপনিবেশের অংশ হিসেবে পরিচালনা করতেন, যেখানে গোয়ায় অবস্থানরত ভাইসরয়রা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
১৬শ শতাব্দীতে পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। ইতিহাসবিদ এডগার প্রেস্টিজের মতে, ইংল্যান্ড সেই সময় পর্তুগালের জন্য একটি শক্তিশালী মিত্র হিসেবে কাজ করে। ১৬৬১ সালের ২৩শে জুন ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের মধ্যে বিয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে ইংল্যান্ডকে উত্তর আফ্রিকার তাঞ্জিয়ার, ভারতের বোম্বের সাতটি দ্বীপ, ব্রাজিল ও পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিজে বাণিজ্যিক সুবিধা, পর্তুগালে বসবাসরত ইংরেজদের জন্য ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা এবং ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন (প্রায় তিন লাখ পাউন্ড) দেওয়া হয়।
বিয়ের চুক্তির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডকে বোম্বে দখল করার অনুমতি দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদ অ্যালাস্টেয়ার ম্যালকম ও পিয়ার্স বেকার-বেটসের মতে, স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপ পর্তুগালের ব্রাগানজা রাজবংশের বিরোধী ছিলেন। তিনি ক্যাথরিন অব ব্রাগানজার বিয়ের পরিবর্তে অন্য ইউরোপীয় রাজকন্যাদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু পর্তুগালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইংল্যান্ডের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য এই বিয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
"এ কারণেই ক্যাথরিনের পরিবর্তে স্পেন দ্বিতীয় চার্লসের জন্য অন্য ইউরোপীয় রাজকন্যাদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন"
"এই চুক্তির অধীনে ইংল্যান্ডকে উত্তর আফ্রিকার তাঞ্জিয়ার, ভারতের বোম্বের সাতটি দ্বীপ, ব্রাজিল ও পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিজে বাণিজ্যিক সুবিধা, পর্তুগালে বসবাসরত ইংরেজদের জন্য ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতা এবং ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন (প্রায় তিন লাখ পাউন্ড) দেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বে), ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ব্রাজিল, উত্তর আফ্রিকার তাঞ্জিয়ার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজা দ্বিতীয় চার্লস, ক্যাথরিন অব ব্রাগানজা, ভাস্কো দা গামা, সুলতান বাহাদুর শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি দ্বীপ, ২০ লাখ পর্তুগিজ ক্রাউন, ১১ নম্বর ধারা, ১৬৬১ সালের ২৩শে জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!