📌 সৌদি আরবে ধর্মীয় স্বাধীনতা আদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে ১৫-১৭ বছর বয়সী তরুণ ইউসুফ আল-মানাসিফকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সাজা নিন্দা করেছে এবং নাবালকদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে
সৌদি আরবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণ ইউসুফ আল-মানাসিফকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই সাজা বহাল রাখার মাধ্যমে সৌদি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর তরুণটির পরিবার চূড়ান্ত আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে সৌদি বিচার ব্যবস্থার ‘নজিরবিহীন অবক্ষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং নাবালকদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে ধর্মীয় অধিকার আদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে ১৫-১৭ বছর বয়সী তরুণ ইউসুফ আল-মানাসিফকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
- 📌 ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ইউসুফের বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছর।
- 📌 গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের মাধ্যমে ইউসুফের কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।
- 📌 ২০২০ সালে সৌদি আরব নাবালকদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল ঘোষণা করলেও বাস্তবে এই সংস্কার প্রতিফলিত হয়নি।
- 📌 ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নাবালককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- 📌 গত বছরে সৌদি আরবে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল বিদেশি নাগরিক।
- 📌 মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রাইভের উপদেষ্টা দুয়া ধাইনি বলেছেন, সৌদি সরকার মৃত্যুদণ্ডকে ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
- 📌 জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা নাবালকদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণ ইউসুফ আল-মানাসিফকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউসুফকে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যখন তার বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছর। গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের মাধ্যমে ইউসুফের কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ইউসুফকে রাষ্ট্র মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল।
সৌদি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ইউসুফের পরিবার চূড়ান্ত আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে। গ্রেপ্তার বা নিপীড়নের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। ইউসুফের পরিবার এখন কেবল অপেক্ষা করার পথেই রয়েছে।
২০২০ সালে সৌদি আরব একটি রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে নাবালক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বাস্তবে এই আইনি সংস্কারের প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যারা অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে ১২ বছর বয়সে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আলী আল-সুবাইতি নামের এক তরুণ এবং তাঁর চাচা মুস্তফা আল-সুবাইতিকে কোনো প্রাণঘাতী অপরাধ না করা সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
"সরকার নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং তাদের নিয়ম না মানলে কঠোর পরিণতি হবে—তা বোঝানোর হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করছে। ১৮ বছর বয়সের আগে সংঘটিত অভিযোগের বিচার নাবালক হিসেবেই হওয়া উচিত, সেখানে মৃত্যুদণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রাইভের প্রতিনিধি দুয়া ধাইনি সৌদি সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা ‘ভয়াবহ’ হারে বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সামান্য মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দণ্ডিত বিদেশি নাগরিক।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউসুফ আল-মানাসিফ, দুয়া ধাইনি, আলী আল-সুবাইতি, মুস্তফা আল-সুবাইতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫-১৭ বছর, ১৭ জন, ১২ বছর, ১৮ বছর, ৩৫৬ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!