📌 সৌদি আরব প্রতি বছর ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সামরিক খাতে ব্যয় করলেও হাউছি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইরানের সহায়তায় সজ্জিত হাউছিরা নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও ব্যয়বহুল হলেও হাউছি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা ঘটার পর এই ব্যর্থতার পরিমাণ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব প্রতি বছর ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার সামরিক খাতে ব্যয় করলেও হাউছি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার** সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও সৌদি আরব হাউছি হামলা থেকে রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে
- 📌 **ইরানের সহায়তায়** হাউছিরা নতুন প্রজন্মের 'হাতেন-২' ও 'ফিলিস্তিন-২' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে
- 📌 **ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে** প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সেনা নিয়ে সজ্জিত হাউছিরা স্থল অভিযানে পরাস্ত করা কঠিন
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধুনিক অস্ত্র** সত্ত্বেও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাউছিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা থেকে রক্ষা করতে পারছে না
- 📌 **ইরান থেকে সরবরাহকৃত প্রযুক্তি** ব্যবহার করে হাউছিরা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে হামলা চালাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরব প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশগুলোর তালিকায় অবস্থান করলেও হাউছি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে রিয়াদের বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিওট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনলেও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাউছিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে পারছে না। সৌদি আরবের ভৌগোলিক ব্যাপ্তি বিশাল — আমেরিকার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগের সমান — এবং তিন দিকে সীমান্ত ঘিরে ঝুঁকিও রয়েছে।
হাউছি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে সৌদি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাউছিরা ইরানের সহায়তায় নতুন প্রজন্মের 'হাতেন-২' ও 'ফিলিস্তিন-২' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা বেশ দ্রুত ও নির্ভুল। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা ইরানি অস্ত্রের সাথে গভীরভাবে মিলে যায়। ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলি জানান, তারা ইরানি প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটিয়েছে বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য।
সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাউছিদের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু কিছু প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এক সৌদি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে বসানো হবে, তা নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে। হাউছিরা ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে দীর্ঘপাল্লার ড্রোনের সমন্বয় ঘটাচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কৌশলের মতোই। নিচু দিয়ে উড়ে আসায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন।
"বহু স্পর্শকাতর স্থাপনা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে বসানো হবে, তা নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (রিয়াদ, তেল শোধনাগার, ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলি (ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার (সামরিক ব্যয়), ৩ লাখ ৫০ হাজার (হাউছি সেনা), ২ বছর (ইরানি প্রযুক্তির ব্যাপকতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!