📌 সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি'র বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ন্যাটোর কাঠামোর আদলে গঠিত হলেও এই জোটের সক্রিয় সামরিক ভূমিকা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর আদলে গঠিত হলেও দেশগুলো একে স্রেফ আত্মরক্ষামূলক জোট হিসেবে দাবি করছে। তবে খোদ সৌদি রাজধানীতে প্রাণঘাতী আঘাতের পর জোটের প্রতিক্রিয়া এবং সামরিক সহায়তার পরিধি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত এবং বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
- 📌 গত ৫ অক্টোবর রিয়াদের বৈঠকে পাকিস্তানি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে তিন বছরের জন্য এই জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- 📌 সৌদি-সমর্থিত বাহিনী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি জোটের পক্ষ থেকে ইয়েমেনে ৩২৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
- 📌 পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী কেবল আকাশপথ পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মতো সহায়ক কাজে যুক্ত থাকবে।
📰 বিস্তারিত
গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে তিন দেশের মন্ত্রী ও সামরিক কমান্ডারদের এক বৈঠকে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং সৌদিতে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই বৃহস্পতিবারে রিয়াদের বিমানবন্দরে দুটি হুতি হামলা আঘাত হানে, যার একটি অবকাঠামোতে এবং অন্যটি সাউদিয়া এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে পড়ে। রয়টার্স এই উত্তেজনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে উল্লেখ করেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান জানিয়েছেন যে জোটের বিশেষ কমিটি এই হামলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। অপরদিকে ইসলামাবাদ এ বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে মিত্রবাহিনী ইয়েমেনের ভেতরে কোনো হামলা চালাবে না। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো প্রকার উসকানি ছাড়া সরাসরি সৌদি ভূখণ্ডে যুদ্ধের আঁচ এলেই কেবল এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানায়, পাকিস্তান চারটি বিমানে করে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের জন্য এডেনে অস্ত্র পাঠিয়েছে, যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা মেলেনি। মে মাসে রয়টার্স জানিয়েছিল যে পাকিস্তান ৮ হাজার সেনা, একটি ফাইটার স্কোয়াড্রন ও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠিয়েছে। পরবর্তীতে ২ অক্টোবর এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার সূত্রে বলা হয়, সৌদি সীমান্ত পাহারা দিতে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সহায়তা করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা কাজ করছে।
"পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কেবল সহায়ক ভূমিকায় থাকবে এবং সৌদি সেনারা সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রিয়াদ, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নোমান মাহমুদ, যুবরাজ খালিদ বিন সালমান, খাজা আসিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন নিহত, ৩২৪টি লক্ষ্যবস্তু, ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!