📌 গাজায় বেসামরিক লোকদের সরিয়ে না নিয়ে ভারী বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরাইলি সেনারা। চার সেনার স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হলেও তা সামরিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিল। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের সাক্ষাৎকারে তারা বলেছেন, বেসামরিক মৃত্যুকে 'পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি' হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছিল
গাজার যুদ্ধে বেসামরিক লোকদের সরিয়ে না নিয়ে ভারী বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের চার সেনা। তারা স্বীকার করেছেন, এসব হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হলেও তা সামরিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিল। সোমবার (১২ অক্টোবর) ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের সাক্ষাৎকারে তাদের এই কথা জানা যায়। গাজায় হামলার আগে বেসামরিক লোকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয় বলে বারবার দাবি করে আসছিলেন ইসরাইলি সেনাবাহিনী। কিন্তু চার সেনার স্বীকারোক্তিতে এ দাবির পেছনে গোপন সত্য উন্মোচিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বেসামরিক লোকদের সরিয়ে না নিয়ে ভারী বোমা হামলার নির্দেশ পেয়েছিলেন চার ইসরাইলি সেনা।
- 📌 হামলার আগে বেসামরিক মৃত্যুকে 'পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি' হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছিল। ২৫০ থেকে ৩০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও তা হামলা চালানোর বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
- 📌 জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবরের হামলায় ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হলেও সেনারা জানতেন, এতে শত শত বেসামরিক লোকের মৃত্যু হবে।
- 📌 সেনারা স্বীকার করেছেন, হামাসের একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে হত্যা করতে ৩০০ বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করে, হামলায় বেসামরিক মৃত্যু কমাতে পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল।
📰 বিস্তারিত
গাজায় বসবাসকারী প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বাসিন্দার মধ্যে হামাসের সদস্য ও কমান্ডারদের শনাক্ত করার দায়িত্বে ছিলেন ‘এ’ নামে পরিচিত এক ইসরাইলি গোয়েন্দা সেনা। তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য হামলার নিয়ম দ্রুত পরিবর্তন করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের সদস্য ও যোদ্ধাদের অবস্থান শনাক্ত করার কাজ আমরা প্রায় শূন্য থেকে শুরু করি। এরপর হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে শিথিলতা আসে।’
সেনারা স্বীকার করেছেন, হামলার আগে বেসামরিক লোকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হত না। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলি সেনারা জানতেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া ভবনসমষ্টিতে তখনো মানুষ বসবাস করছিল। কিন্তু কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারিকে হত্যা করতে গিয়ে শত শত বেসামরিক লোকের মৃত্যু ঘটে। সেনারা বলেন, হামলার পর তারা বুঝতে পারেন, মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন।
সেনারা আরও জানান, হামলার আগে সেনাপ্রধানকে জানানো হয়েছিল যে, এতে ২৫০ থেকে ৩০০ জনের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বেসামরিক মৃত্যুকে 'পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি' হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। সেনারা বলেন, ‘আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম যখন দেখলাম, কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ ভবন ধ্বংস করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’
"আমরা জানতাম, বিয়ারি বড় বড় ভবনের নিচে ভূগর্ভে অবস্থান করছেন। কিন্তু ঠিক কোন ভবনের নিচে, তা জানতাম না। তাই তারা এমন ভবন বেছে নেয়, যেগুলোতে তখনো মানুষ বসবাস করছিল।" — 'ডি' নামের সেনা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, জাবালিয়া শরণার্থীশিবির
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরাইলি সেনারা (৪ জন), প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, হামাসের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ লাখ (গাজার বাসিন্দা), ২৫০-৩০০ (মৃত্যুর আশঙ্কা), ২৫০+ (নিহত ফিলিস্তিনি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!