📌 ইসরাইলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কারারক্ষীদের রাবার বুলেটের গুলিতে ২১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে একজন বন্দির স্পর্শকাতর অঙ্গ অপসারণ করতে হয়েছে এবং আরেকজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। মানবাধিকার সংগঠন দুটি ইসরাইলের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে যে, বদ্ধ জায়গায় গুলি চালানোর ফলে প্রাণঘাতী আঘাতের ঝুঁকি রয়েছে
ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কারারক্ষীদের রাবার বুলেটের গুলিতে ২১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে একজন বন্দির স্পর্শকাতর অঙ্গ অপসারণ করতে হয়েছে এবং আরেকজনের পায়ের ভাঙা হাড়ের অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইসরাইলের মানবাধিকার সংগঠন এবং নির্যাতনবিরোধী গণকমিটির তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরাইলের পাঁচটি কারাগারে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বন্দিদের ওপর গুলি চালানোর ২১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে
- 📌 দক্ষিণ ইসরাইলের কেতজিয়ত কারাগারে এক বন্দির স্পর্শকাতর অঙ্গে গুলি লাগে; অস্ত্রোপচার করে অঙ্গটি অপসারণ করতে হয়
- 📌 এক বন্দির বাম পায়ের নিচের হাড় ভেঙে যায় রাবার বুলেটে; পরে অস্ত্রোপচার করতে হয়
- 📌 কারারক্ষীরা প্রায়ই কোনো গোলযোগ ছাড়াই কাছ থেকে গুলি চালিয়েছেন
- 📌 বন্দিদের কক্ষ, কারাগারের উঠান এবং আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের জায়গাতেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে
- 📌 ইসরাইলের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৩৫০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৫০ শিশু ও ৯০ নারী
📰 বিস্তারিত
ইসরাইলের দৈনিক হারেৎজ এবং তুরস্কের আনাদোলু সংস্থা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বন্দিদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাগুলো নথিভুক্ত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে। কারারক্ষীরা প্রায়ই কোনো গোলযোগ ছাড়াই কাছ থেকে গুলি চালিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন দুটি জানিয়েছে, গুলিতে রাবার বা প্লাস্টিকের তৈরি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হয়।
গত জুনে দক্ষিণ ইসরাইলের কেতজিয়ত কারাগারে এক বন্দির স্পর্শকাতর অঙ্গে গুলি লাগে। সরোকা হাসপাতালের চিকিৎসার নথি অনুযায়ী, অঙ্গটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করে তা বাদ দিতে হয়। আইনজীবীকে দেয়া সাক্ষ্যে ওই বন্দি জানান, এর এক সপ্তাহ আগে তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাঁর স্পর্শকাতর অঙ্গে লাথি মারেন। এরপর এক সপ্তাহ পর কারারক্ষীরা তাঁর কক্ষে রাবার বুলেট ছোড়েন। এতে আগে আহত ওই অঙ্গ ও ডান হাঁটুর পেছনে গুলি লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও কারারক্ষীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় ৫০ মিটার দূরে নিয়ে যান। পরে তিনি চিকিৎসা পান এবং হাসপাতালে নেয়া হয়।
জুলাইয়ে নথিবদ্ধ আরেক ঘটনায় কেতজিয়ত কারাগারের এক বন্দির বাম পায়ের নিচের হাড় রাবার বুলেটে ভেঙে যায়। পরে তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হয়। সাবেক এক বন্দি হারেৎজকে জানান, এপ্রিলে কাছ থেকে গুলি করার পর ১৫ দিন তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়নি। মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর অস্ত্রোপচার হয়।
মানবাধিকার সংগঠন দুটি জানিয়েছে, বন্দিদের কক্ষ, কারাগারের উঠান, এমনকি আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকার জায়গাতেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্টে সংগঠন দুটি ইসরাইলের কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের ওপর এ ধরনের গুলি ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানায়। বিশেষ করে কাছ থেকে ও বদ্ধ জায়গায় গুলি চালালে প্রাণঘাতী আঘাতের ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করে তারা। তবে ইসরাইলের কারা বিভাগ এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতির প্রয়োজন ও হুমকির মাত্রা বিবেচনা করেই তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
"প্রতিশোধের ভয়ে বন্দিরা নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে চান না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযোগ দায়ের হলেও কোনো মামলা হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইলের পাঁচটি কারাগার (বিশেষত কেতজিয়ত কারাগার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিলিস্তিনি বন্দিরা, কারারক্ষীরা, আইনজীবীরা, মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১টি ঘটনা, ৫০ মিটার, ১৫ দিন, ৯ হাজার ৩৫০ ফিলিস্তিনি বন্দি, ৩৫০ শিশু, ৯০ নারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!