📌 ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠকে ঘোষণা করেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত আলোচনা হবে না বলে জানান ইরানের নেতৃবৃন্দ
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠকে ঘোষণা করেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদানই ইরানের বাইরে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে এই উপাদানগুলো দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। কোনো পরিমাণও বাইরে যাবে না’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম** ইরানের অভ্যন্তরে থাকবে — কোনো অংশও দেশের বাইরে যাবে না বলে ঘোষণা করলেন মোহসেন রেজাই।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জনের জন্য** নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হুমকি প্রত্যাহার ছাড়া আলোচনা হবে না বলে জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
- 📌 **পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ** বলেন, ইরানের সাতটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।
- 📌 **ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি** নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলার পর থেকে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে।
- 📌 **৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম** প্রয়োজন হয় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য, কিন্তু ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার শর্তগুলো পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদান কোনো অবস্থায়ও দেশের বাইরে যাবে না। মোহসেন রেজাই বলেন, ‘এই উপাদানগুলো ইরানের জাতীয় সম্পদ। আমরা তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করবো’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার জন্য আস্থা তৈরির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ওয়াশিংটন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত আলোচনা হবে না’।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া আলোচনায় বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। জনগণের আশঙ্কা, আলোচনায় বসলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো হামলা চালাবে’।
পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘ইরানের সাতটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। হুমকি ও সামরিক তৎপরতা চালিয়ে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না’। ইরানের শর্তগুলোতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
"একটুখানি সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানও ইরানের বাইরে যাবে না। এসব উপাদান ইরানের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় সম্পদ"
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। জুনে যুদ্ধরত পক্ষগুলো একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহসেন রেজাই, মাসুদ পেজেশকিয়ান, আসিম মুনির, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, ২০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!