📌 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 'ইমোশনাল ডোনার' বা নিঃস্বার্থ দাতাদের অঙ্গদানের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আইনের ফলে দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে, বিদেশযাত্রা কমবে এবং চিকিৎসা ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ২০২৬ বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো 'ইমোশনাল ডোনার' বা নিঃস্বার্থ দাতাদের অঙ্গদানের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় সাশ্রয় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইমোশনাল ডোনার সুযোগ: আইনে প্রথমবারের মতো নিকটাত্মীয়ের বাইরে নিঃস্বার্থ দাতাদের অঙ্গদানের আইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 বিড়ম্বনা কমবে: দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের হার বাড়লে বিদেশযাত্রা কমবে এবং চিকিৎসা ব্যয় সাশ্রয় হবে।
- 📌 প্রথম সফল প্রতিস্থাপন: ১০ আগস্ট বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনার থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে।
- 📌 ব্রেইন ডেথ শর্ত: ব্রেইন ডেথ ঘোষণার জন্য কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা অবিরাম কোমা অবস্থা থাকতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ইইজি পরীক্ষা প্রয়োজন।
- 📌 অঙ্গদানের শর্ত: দাতা স্বাস্থ্যসম্পন্ন এবং অঙ্গ বিযুক্তির ফলে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত না ঘটলে অঙ্গদান করতে পারবেন।
📰 বিস্তারিত
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কেবল সরকারের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে অনুমোদিত নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলোই মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে। এই আইনের মাধ্যমে নিকটাত্মীয়ের বাইরে 'ইমোশনাল ডোনার' বা নিঃস্বার্থ দাতাদের অঙ্গদানের আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনের ফলে দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে এবং রোগীরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে না।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ‘আইন যদি আপনাকে সুরক্ষা দেয়, তাহলে কোনো কাজ করতে আর বাধা থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাস হওয়া আইনে ইমোশনাল ডোনারের বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। ফলে নিকটাত্মীয়ের বাইরে এখন নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনার থেকে পাওয়া কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে দেশে যদি কিডনি, লিভার প্রতিস্থাপন অধিক হারে হতে থাকে, তাহলে এসব চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।’
বিএমইউতে সরকারি অনুদানের অর্থে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা লিভার প্রতিস্থাপন করতে প্রায় দেড়শ ব্যাগ রক্তের সঞ্চয় রাখতে হয়। আর টাকার ক্ষেত্রে আমরা একটা হিসাব করে দেখেছি যে, ৩০ লাখ টাকার মত খরচ লাগতে পারে। এই টাকা দিয়ে যদি দেশে চিকিৎসার সুযোগ হয়, তাহলে মানুষ বিদেশে যাবে কেন?’
ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রে আইনে স্পষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। ২ বছর হতে ১৩ বছর বয়স্ক কোনো শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে শিশুটিকে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষা দ্বারা কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী কমিটি গঠিত হবে মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি এবং এ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে।
"পাস হওয়া আইনে ইমোশনাল ডোনার বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। ফলে নিকটাত্মীয়ের বাইরে এখন নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ লাখ টাকা (লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ), ১২ ঘণ্টা (ব্রেইন ডেথ ঘোষণার শর্ত), ১০ আগস্ট (প্রথম সফল প্রতিস্থাপন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!