📌 ফরিদপুরের নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী বীথি আক্তার (২৩) সন্তান জন্মের সময় অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ করে মৃত্যুবরণ করেন। পাঁচ মাসের চিকিৎসা ও দুটি অস্ত্রোপচারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্বামী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে স্ত্রীর মৃত্যু হয়
ফরিদপুরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী বীথি আক্তার (২৩) সন্তানের কোলে বাঁচার আকাঙ্ক্ষায় মৃত্যুবরণ করেছেন। সন্তান জন্মের সময় অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ করে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। সন্তান জন্মদানের পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন বীথি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বীথি আক্তার (২৩) ফরিদপুরের গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলার হাট জ্যোতিনবর্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফরিদপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।
- 📌 ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু পেটে গজ রেখে সেলাই করেন বলে অভিযোগ করেছেন বীথির পরিবার।
- 📌 ১২ জুলাই বীথিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৫ জুলাই দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় পেট থেকে গজ কাপড় বের করা হয়। তবে তারপরও পেটে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
- 📌 ৪ অক্টোবর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে ৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 স্বামী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ‘আমি ব্যর্থ হলাম। ওরা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলছে। আমার এই সন্তানকে এখন বাঁচাব কী করে। আমি বিচার চাই।’
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল এবং সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বীথিকে ঢাকায় পাঠানো। তবে তদন্ত কমিটি আরও সময় চেয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে বীথি আক্তার (২৩) সন্তানকে কোলে নিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আকুতি পূরণ হলো না। সন্তান জন্মদানের সময় অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বীথির পরিবার। এই অভিযোগের পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
বীথি আক্তার ফরিদপুরের গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলার হাট জ্যোতিনবর্দীপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন। ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু তাঁর পেটে গজ রেখে সেলাই করেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবার।
সন্তান জন্মের পাঁচ দিন পর বীথি হাসপাতাল থেকে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও জটিলতা দেখা দেয়। পরিবার জানায়, একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের কাছে গেলে কোনো গুরুতর সমস্যা নেই বলে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে প্রায় দেড় মাস পর ১২ জুলাই বীথিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ জুলাই সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা তাঁর দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় পেটের ভেতর থেকে গজ কাপড় বের করা হয়। তবে তখন তাঁর নাড়িতে পচন ও সংক্রমণ দেখা দেয়।
২২ জুলাই তাঁকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে পেটের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ২ অক্টোবর বীথি নিজেই বাঁচার আকুতি জানান। ওইদিন ‘সিজারিয়ানের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, সংকটাপন্ন বীথি বাঁচতে চান সন্তানের জন্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্বামী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ‘আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ৪ অক্টোবর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে তিনি মারা যান।’ বীথির মরদেহ দুপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
"আমার সন্তানকে কোলে নিয়ে বাঁচতে চাই"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোয়ালন্দ উপজেলা, জামতলার হাট জ্যোতিনবর্দীপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বীথি আক্তার (২৩), রাকিবুল ইসলাম, তামান্না আক্তার, অরবিন্দু, মানস কৃষ্ণ কুন্ডু, ফজলুল হক শোভন, সঞ্জয় সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ বছর বয়স, ৬ মে, ১২ জুলাই, ১৫ জুলাই, ২২ জুলাই, ২০ সেপ্টেম্বর, ৪ অক্টোবর, ৮ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!