📌 ফরিদপুরে সিজার অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ছয় মাসের লড়াই শেষে তার মৃত্যু হয়, পরিবার দাবি করে চিকিৎসকদের অবহেলা ছিল মূল কারণ
ফরিদপুরে সিজার অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। ছয় মাসের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল, কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) সিজার অস্ত্রোপচারের ত্রুটির কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজার অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে পরিবার দাবি করেছে
- 📌 অস্ত্রোপচারের পর বিথী তীব্র যন্ত্রণা ও জটিলতা ভোগ করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 বিথীর ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে, নিজের সন্তানকেও যথাযথভাবে দেখতে পারেননি
- 📌 গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা দাবি করেছেন, ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত
📰 বিস্তারিত
গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বিথী আক্তার (২৫) গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও জটিলতা ভোগ করতে থাকেন। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে কাজ করা হয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর বিথীর শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে তার পেটের নাড়িতে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয় এবং তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রাখতে হয়। পরিবার জানিয়েছে, বিথীকে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে বিথীর শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে যেতে থাকে। তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে। অসুস্থতার কারণে বিথী নিজের নবজাতক সন্তানকেও যথাযথভাবে দেখতে পারেননি।
বিথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। একের পর এক জটিলতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।’’
"বিথীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও আমি বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দুইবার দেখেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।"
— গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোয়ালন্দ উপজেলা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিথী আক্তার (২৫), মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. সাইফুল হুদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর বয়স, ৬১ কেজি থেকে ৩৮ কেজিতে ওজন কমে গেছে, ৬ মে সিজার অস্ত্রোপচার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!