📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অবহেলায় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ বিথী আক্তার (২৫) ৬ মাস পর মারা যান। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অবহেলায় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ বিথী আক্তার (২৫) মারা যান। ৬ মাস পর এই ঘটনা ঘটে। বিথী আক্তার ৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেলে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী বিথী আক্তার মারা যান
- 📌 ৬ মাস আগে (৬ মে) সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকে বিথী তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন এবং ১৫ জুলাই আবার অস্ত্রোপচার করা হয়
- 📌 ৪ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর সকালে বিথী মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন এবং মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন
- 📌 গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা ঘটনাটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অবহেলায় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে বিথী আক্তার (২৫) মারা যান। বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিথী গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের সময় অবহেলায় তার পেটের ভেতর গজ রেখে সেলাই করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই বিথী তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও জটিলতায় ভুগছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর গত ১৫ জুলাই বিথীর আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে কয়েকদিন আইসিইউতেও রাখা হয় তাকে। এরপর ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ অক্টোবর বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ ঘটনায় মামলা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছোট্ট শিশুটিকে এখন কীভাবে সামলাব, বুঝতে পারছি না। আর কোনো পরিবারের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
বিথীর পরিবারের সদস্যরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিথী নিজের নবজাতক সন্তানকে ঠিকমতো কোলে তুলে নেওয়ার সুযোগও পাননি। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর মৃত্যুর খবর শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কয়েকদিন আগে আমি নিজে বিথীর শিশুকে দেখতে গিয়েছিলাম। গতকাল জেলা প্রশাসকও শিশুটিকে দেখতে গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তদন্তে কারও দায় পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি পরিবারটির সহযোগিতার প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করার চেষ্টা করা হবে।’
"আমাদের ছোট্ট শিশুটিকে এখন কীভাবে সামলাব, বুঝতে পারছি না। আর কোনো পরিবারের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গোয়ালন্দ উপজেলা, রাজবাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিথী আক্তার (২৫), রাকিবুল ইসলাম, ডা. তামান্না, ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ, সাইফুল হুদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (বয়স), ৬ মাস (মৃত্যুর পূর্বে), ৬ মে (সিজারিয়ান অপারেশন), ১৫ জুলাই (দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার), ৪ অক্টোবর (ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা শুরু), ৮ অক্টোবর (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!