📌 বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও টিএমএসএস হার্ট সেন্টার হৃদ্রোগ চিকিৎসায় আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে টিএমএসএস হার্ট সেন্টার এ পর্যন্ত ১৭৮টি কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন করেছে। সরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা চাপের কারণে শয্যা সংকট দেখা দিচ্ছে
বগুড়া শহর হৃদ্রোগ চিকিৎসায় ঢাকামুখী রোগীদের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের রোগীরা এখন ঢাকার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আঞ্চলিক সুবিধা উপভোগ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিএমএসএস হার্ট সেন্টার ২০০৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে এ পর্যন্ত ১৭৮টি কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে বাইপাস ও হার্ট ভাল্ভ অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত
- 📌 ১৭৫ শয্যার কার্ডিওলজি বিভাগে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহির্বিভাগে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন এবং ভর্তি রোগী হিসেবে ৩৮ হাজার ৯৩৬ জন চিকিৎসা পেয়েছেন
- 📌 বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল খান বলেছেন, টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের চিকিৎসা মান ঢাকার নামীদামি হাসপাতালের সমতুল্য এবং খরচও প্রায় অর্ধেক
- 📌 শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৪ জন রোগী চিকিৎসা পেয়েছেন, কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন
- 📌 হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে অনুমোদিত শয্যা ৪৫টি, কিন্তু প্রতিদিন ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হয়, যার ফলে শয্যা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বগুড়া শহর হৃদ্রোগ চিকিৎসায় আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। টিএমএসএস হার্ট সেন্টার ২০০৫ সালে বহির্বিভাগ চালু করে কার্ডিওলজি বিভাগের যাত্রা শুরু করে। ২০১২ সালে ১২ শয্যার সিসিইউ চালু করে ইনডোর সেবা শুরু হয়। টিএমএসএস হার্ট সেন্টার প্রকল্প ২০২১ সালে শুরু হয় এবং এ পর্যন্ত ১৭৮টি কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বাইপাস সার্জারি, হার্ট ভাল্ভের অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ডিয়াক সার্জারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মজিবর রহমান সেলিম জানান, প্রতিষ্ঠানটি হৃদ্রোগের চিকিৎসা থেকে শুরু করে ক্যাথল্যাবের চিকিৎসা এবং কার্ডিয়াক সার্জারি পর্যন্ত সুবিধা প্রদান করে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল খান বলেন, টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের চিকিৎসা মান ঢাকার নামীদামি হাসপাতালের সমতুল্য এবং খরচও প্রায় অর্ধেক। তিনি বলেন, “এখানে সেবার মান ঢাকার নামীদামি হাসপাতালের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। চিকিৎসার খরচও ঢাকার প্রায় অর্ধেক।”
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হৃদ্রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে সুনাম ধরে রেখেছে। হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৪ জন রোগী চিকিৎসা পেয়েছেন। তবে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, “হাসপাতালটি আগে ৫০০ শয্যার ছিল। তখন কার্ডিওলজি বিভাগে যে জনবলকাঠামো ছিল, সেই জনবলেই এখনো চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম চলছে।”
"এখানকার চিকিৎসকেরা রোগীদের প্রতি খুবই আন্তরিক, কিন্তু শয্যা খালি পাওয়া যায় না। অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।"
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের হাম্মাদ আলী মণ্ডল, যিনি সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া, ঠেঙ্গামারা (টিএমএসএস হার্ট সেন্টার), শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: গোলাম রসুল খান, ডা. মজিবর রহমান সেলিম, ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, হাম্মাদ আলী মণ্ডল, ডা. অলক চন্দ্র সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ তলা ভবন, ১২ শয্যা সিসিইউ, ১৭৮টি কার্ডিয়াক সার্জারি, ১৭৫ শয্যা কার্ডিওলজি বিভাগ, ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা, ৩৮ হাজার ৯৩৬ জন ভর্তি রোগী, ৯ হাজার ৯৯৪ জন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!