📌 দেশে নুডলসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। বর্তমানে বাজারের আকার ১০২.৮২ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে ১১০.৩৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। শহুরে জীবনযাত্রা ও দ্রুত খাবারের চাহিদা বাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দেশে নুডলসের বাজার দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটছে। কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, দ্রুত খাবারের চাহিদা এবং পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে নুডলসের চাহিদা বাড়ছে। আজ নুডলস দিবস। স্কুলের টিফিন থেকে অফিসের ফাঁক পর্যন্ত নুডলসের উপস্থিতি এখন প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে নুডলসের বাজারের আকার ২০২৫ সালে ছিল ১০২.৮২ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ১১০.৩৭ মিলিয়ন ডলারে।
- 📌 ২০৩১ সালের মধ্যে নুডলসের বাজার পৌঁছাবে ১৫৭.২৮ মিলিয়ন ডলার।
- 📌 করোনাকালে বাজার প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়েছিল ১৫ শতাংশের বেশি, বর্তমানে ১০ শতাংশে বাড়ছে।
- 📌 শহরাঞ্চলের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নুডলসের চাহিদা বাড়ছে, যেখানে দুই-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষ বসবাস করে।
- 📌 নেসলার ‘ম্যাগি’ বাজারে এক-চতুর্থাংশ দখল রেখেছে, কিন্তু দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলছে।
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নুডলসসহ পাস্তা রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে নুডলসের বাজার ক্রমবর্ধমান। কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, দ্রুত খাবারের চাহিদা এবং পরিবর্তিত রুচির কারণে নুডলসের চাহিদা বাড়ছে। স্কুলের টিফিন বক্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের কক্ষ, কর্মব্যস্ত অফিসের ফাঁক কিংবা বাসার রান্নাঘর—সবখানেই এখন নুডলসের উপস্থিতি। খুব অল্প সময়ে ঝটপট তৈরি করা যায় এবং পেটও ভরে সহজে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই মুখরোচক খাবার এখন দেশের সব বয়সী মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে নুডলসের বাজারের আকার ২০২৫ সালে ছিল ১০২.৮২ মিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর ৭.৩৪ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি ধরে প্রতিষ্ঠানটির অনুমান, ২০২৬ সালে এই বাজারের আর্থিক আকার বেড়ে দাঁড়াবে ১১০.৩৭ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩১ সালে তা পৌঁছাবে ১৫৭.২৮ মিলিয়ন ডলারে। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মতে, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে এ বাজারের আকার ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকার। স্বাভাবিক সময় বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বাজার বড় হলেও করোনাকালে গৃহবন্দী মানুষের বাড়তি চাহিদায় প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়েছিল ১৫ শতাংশের বেশি।
চাহিদার পেছনে রয়েছে দেশের দুই-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের শহুরে জীবনযাত্রা। তাদের দ্রুতগতির ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় স্ন্যাকস এবং ফাস্ট ফুডজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে প্রতিদিন। পরিবারে মা ও বাবা দুজনই চাকরিজীবী হওয়ায় সন্তানের টিফিন দ্রুত প্রস্তুত করা কিংবা অফিস শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীরে ঝটপট মুখরোচক কিছু বানানোর সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে নুডলসের প্রসার ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ও ভোক্তাদের দ্রুত বদলে যাওয়া খাদ্যাভ্যাসও এতে ভূমিকা রেখেছে। সুপারমার্কেট, পাড়ার খুচরা দোকান ও অনলাইন চেইনশপগুলোতে এখন মিলছে বাহারি নুডলস।
"দেশে নুডলসের বাজার বর্তমানে বেশ সম্ভাবনাময় এবং ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের ব্যস্ত জীবনযাত্রা, তরুণ প্রজন্ম ও পরিবারের মধ্যে দ্রুত ও সহজে প্রস্তুত করা খাবারের চাহিদা নুডলসের বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে ভোক্তারা এখন শুধু দাম নয়, স্বাদ, মান, নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।"
মূল্যস্ফীতির কারণে কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপচয় হ্রাস ও দক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে খাবারের মান ও দামের ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত নুডলসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাস্তা, স্পেগেটি, ম্যাকারনি ও নুডলস রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী মো. মহিউদ্দিন (মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের সিএমও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২.৮২ মিলিয়ন ডলার (২০২৫), ১১০.৩৭ মিলিয়ন ডলার (২০২৬), ১৫৭.২৮ মিলিয়ন ডলার (২০৩১), ১৫ শতাংশ (করোনাকালে প্রবৃদ্ধি), ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার (২০২৫-২৬ অর্থবছরের রপ্তানি আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!