📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে মিথ্যা জীবনবৃত্তান্ত দিয়েই নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন চার্জশিট অনুমোদন করেছে। দুদকের অভিযোগ, সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি পদ লাভ করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার্জশিট অনুমোদন করেছে। দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান রোববার এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদে মিথ্যা সিভি দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদক
- 📌 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) এ ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ হিসেবে কাজের মিথ্যা তথ্য দেওয়া অভিযোগ
- 📌 ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে আবেদনকালে শিক্ষকতা ও শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরির অভিজ্ঞতা থাকার দাবি করা হলেও সায়মা ওয়াজেদ এসব কাজ করেননি
- 📌 স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হওয়ার পর সিভিতে মিথ্যা তথ্য উল্লেখ
- 📌 দুদকের অভিযোগ: ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চাপ প্রয়োগ করা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে মিথ্যা তথ্য পাঠানো হয়
- 📌 ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে
- 📌 ২০২৫ সালের ২০ মার্চ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডব্লিউএইচওতে চাকরি নেওয়ার পাশাপাশি সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে
📰 বিস্তারিত
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে আবেদনকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরির অভিজ্ঞতা থাকার দাবি করেন। তবে দুদকের তদন্তে দেখা যায়, তিনি এসব কাজ করেননি। সিভিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সায়মা ওয়াজেদ ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদ লাভ করেন।
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (ঘুষ), ৪৬৮ (মিথ্যা সাক্ষ্য) ও ৪৭১ (দস্তাবেজে মিথ্যা তথ্য) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডব্লিউএইচওতে চাকরি নেওয়ার পাশাপাশি সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে চাপ প্রয়োগ করে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগেও সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি মামলা করেছে।
"সায়মা ওয়াজেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরির অভিজ্ঞতা থাকার দাবি করেছেন, কিন্তু তিনি এসব কাজ করেননি। এছাড়াও তিনি সিভিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডব্লিউএইচওর পদ লাভ করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, সুইজারল্যান্ড (জেনেভা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সায়মা ওয়াজেদ, মো. সাইদুর রহমান খান (দুদক সচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ (ডব্লিউএইচও আবেদন), ২০১৭ (উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন), ২০২৫ (২০ মার্চ), ২০টি ব্যাংক, ৩৩ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!