📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে মিথ্যা তথ্য দিয়েই নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা না করেও নিজেকে অনারারি স্পেশালিস্ট হিসেবে দাবি করে নিয়োগ লাভ করেন
দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান রোববার (১৮ অক্টোবর) একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঘোষণা করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে মিথ্যা তথ্য দিয়েই নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। এই অভিযোগে পুতুলের নামে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিথ্যা সিভি: সায়মা পুতুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকতা না করেও নিজেকে ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ হিসেবে দাবি করে ডব্লিউএইচওর পদে আবেদন করেন।
- 📌 ৩৩ কোটি টাকা চুরি: ২০২৫ সালের ২০ মার্চ সায়মা পুতুলের নামে দুদক ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
- 📌 ক্ষমতার অপব্যবহার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের জাতিসংঘ মিশনকে তথ্য যাচাই করার সুযোগ না দিয়ে চাপ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুদক চার্জশিট দাখিল করে।
- 📌 দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি আইনের অধীনে অভিযোগ: সায়মা পুতুল দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক পদে নিয়োগ: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে পুতুল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান।
📰 বিস্তারিত
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রমে অংশ নেননি। তবুও তিনি নিজেকে ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ হিসেবে দাবি করে সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয়ের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে তথ্য পাঠানো হয়।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পুতুল ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই কার্যক্রম চালান। তিনি সিভিতে দেওয়া মিথ্যা তথ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “আসামি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে এই কাজে সম্পর্কিত মর্মে মিথ্যা দাবি করে ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন।”
"আসামি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে এই কাজে সম্পর্কিত মর্মে মিথ্যা দাবি করে ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, সুইজারল্যান্ড (জেনেভা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, মো. সাইদুর রহমান খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ, ২০২৩ সালে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!