📌 চট্টগ্রামের কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন (ওরফে বগা) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলেও আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিল। পুলিশের ২৩টি মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ধরতে পারেনি। মামলায় জামিন না পেয়ে কারাগারে যাওয়ার পথে তিনি
চট্টগ্রামের কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন (ওরফে বগা) আজ রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলেও আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। পুলিশের ২৩টি মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ধরতে পারেনি। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন ওয়াকিল। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ‘কিশোর গ্যাং নেতা’ ওয়াকিল হোসেন (ওরফে বগা) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলেও আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে
- 📌 পুলিশের ২৩টি মামলায় আসামি থাকা সত্ত্বেও ওয়াকিলকে ধরতে পারেনি — সর্বশেষ ৬ অক্টোবর তাঁকে ধরতে গেলে সফলতা না পেয়েছিল পুলিশ
- 📌 ওয়াকিলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে — তিনি একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশের ওপর হামলায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে — এতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ছয় সদস্য আহত হন
- 📌 ওয়াকিলের বাবা আদালতে মামলা করেন — অভিযোগ, ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ওয়াকিল হোসেন। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য গত ৮ জুন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। তিনি একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ান। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নগর ভবনে ওয়াকিল অবস্থান করছেন খবর পেয়ে সেখানে তাঁকে ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের জানানো হয়, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না। মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ওয়াকিল দলের দুঃসময়ে মিছিল সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। ওই দিনই আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি থেকে বদলি করে নগর পুলিশের সিটিএসবিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আবদুর রহিমকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। মামলা নেওয়ার কারণে ওসি আবদুর রহিমকে ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওসি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।
ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ওয়াকিলের বাবা। এতে অভিযোগ করা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
"পুলিশ নগর ভবনে ওয়াকিলকে ধরতে আসেনি, আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। ওয়াকিল ওখানে ছিল না। কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। গ্রেপ্তার করুক। আমি কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছি না।"
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ-সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টারের বিরোধে হৃদয় নামে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায়ও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ওয়াকিলের গ্রুপ সেভেন স্টার এবং খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল হোসেনের গ্রুপ ফাইভ স্টারের বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
সর্বশেষ ৬ অক্টোবর প্লট দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ মুহাম্মদ আরিফ মামলাটি করেন। তিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফলাতুনের ছেলে। মামলার এজাহারে বাদী পাঁচটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১১ ফেব্রুয়ারি ও ২৫ এপ্রিল তাঁকে অপহরণ করে ওয়াকিলের আস্তানায় নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (নগর, খুলশী, খুলশি, পাহাড়তলী, ওয়্যারলেস কলোনি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াকিল হোসেন (ওরফে বগা), মেয়র শাহাদাত হোসেন, ওসি আবদুর রহিম, হাসান ইকবাল চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শেখ মুহাম্মদ আরিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩টি মামলা, ৮ জুন, ৬ অক্টোবর, ২৯ আগস্ট, ৪ সেপ্টেম্বর, ১৪ জন, ১৫০-২০০ জন, ১৭ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!