📌 গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাত বছরের শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুটি আদালতে জবানবন্দি দিলে পুলিশ প্রাথমিক সত্যতা পায়। ঘটনায় শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিমে একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। শিশুটি বিচারকের সামনে জবানবন্দি দিলে ঘটনার সত্যতা আরও প্রমাণিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ বছর বয়সী মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- 📌 সাত বছরের শিশুটি গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ।
- 📌 দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে: একটি শিশুকে যৌন নিপীড়নের, আরেকটি শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের জন্য।
- 📌 ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে দায়ের করেছে।
- 📌 টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর হোসেন জানিয়েছেন, শিশুটি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের সামনে জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন শিক্ষককে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শিশুটি মাদ্রাসার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’-তে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ঘটনার কথা কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় শিশুটিকে। আতঙ্কিত হয়ে সে তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে শিশুটি ঘটনার কথা বাবা-মাকে বলতে বাধ্য হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার দুপুরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষের কাছে ঘটনার জবাব চান। সেখানে জড়ো হওয়া জনতা শিক্ষককে মারধর করে। মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তারা দাবি করেছেন, ১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুট করেছে। তবে শিশুটির বাবা শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি ‘মব’ তৈরি করতে যাননি বরং শুধু মেয়ের ঘটনার বিচার চেয়েছিলেন। তিনি টাকা লুটের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
"শুধু মেয়ের ঘটনার বিচার চাইতেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। টাকা লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি।" — শিশুটির বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম, ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশু (৭ বছর), উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন (৩০), ওসি আরিফুর হোসেন, শিশুটির বাবা, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ লাখ টাকা (লুটের অভিযোগ), ১৫ জন (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি), ৩০ বছর (মোসলেম উদ্দিনের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!