📌 গাজীপুর টঙ্গীতে অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা দাবি করেছেন, তিনি বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো মব সৃষ্টি করতে নয়। তিনি নিজের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজের তদন্ত দাবি করেছেন
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। তবে তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **শিশুটির বাবা** দাবি করেছেন, তিনি মেয়ের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, মব সৃষ্টি করতে নয় — মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি নাকচ করেছেন
- 📌 **ভাঙচুরের অভিযোগে** শিশুটির বাবা বলেছেন, মাদ্রাসায় একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নয় — ক্ষতিপূরণ দেবার প্রস্তাব দিয়েছেন
- 📌 **১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে** সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি করেছেন — মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার বলে দাবি
- 📌 **মাদ্রাসা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে** শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান না — তিন দিন আগে অভিযোগ জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
- 📌 **পুলিশ তদন্তের আশা** জানিয়েছেন — উভয় পক্ষের মৌখিক হুমকির অভিযোগে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে
- 📌 **শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে** অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে — পৃথক মামলায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভাঙচুর ও মারধর অভিযোগ দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিশুটির বাবা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। কিন্তু আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেছেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নয়। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’ ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।’
শিশুটির বাবা আরও বলেছেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’ তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু অধ্যক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’
শিশুটির বাবা নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে বলেছেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
"আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।"
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেছেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টঙ্গী, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশুটির বাবা, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!