📌 কুমিল্লা স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হোটেলকর্মী রাজু চৌধুরীকে (২০) কক্সবাজারে সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা ডিবি তদন্তে তার সঙ্গে তাজমিনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে
কুমিল্লা জেলার স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) কক্সবাজারে সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের যোগসূত্র পাওয়া গেলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং বিচারক তার কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লা হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন রাজু চৌধুরী (২০) কক্সবাজারে সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়
- 📌 জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়
- 📌 কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহী নূরী রাজুর কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
- 📌 তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অবস্থান বিশ্লেষণে রাজুর সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়
- 📌 রাজুকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা পুলিশের দল কক্সবাজারে আসেনি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার পুলিশের কাছে অধিযাচনপত্র পাঠানো হয়
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা জেলার স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আলোচনায় আসা রাজু চৌধুরীকে (২০) কক্সবাজারে সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজুকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহী নূরী জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার সদর জুডিসিয়াল আদালতে রাজুকে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের চন্দ্রিমা উদ্যানসংলগ্ন এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। গণমাধ্যমে তার সংশ্লিষ্টতার খবর প্রকাশের পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে লিখিত অধিযাচনপত্র পাঠান। এরপর কুমিল্লা থেকে আসা ডিবির একটি দল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কুমিল্লায় না নিয়ে কক্সবাজার পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, কুমিল্লা পুলিশের অধিযাচন অনুযায়ী রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, রাজুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য কুমিল্লা পুলিশের দল কক্সবাজারে যায়নি। হোটেলে অবস্থানসহ তদন্তের প্রয়োজনে কিছু বিষয় যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
"তাজমিনের পরিবার চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজারে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে"
তদন্তে জানা গেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ৬ অক্টোবর তাজমিন কক্সবাজারে আসেন। সেখানে কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর লেখা ছিল। সেখানে তাদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তারা হোটেল ছাড়েন। রাজু তাজমিনের জন্য কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কেটে দেন। ওই রাতে কুমিল্লায় পৌঁছে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার সঙ্গে তাজমিনের দেখা হয়। সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার সদর মডেল থানা, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কলাতলী এলাকা (কক্সবাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজু চৌধুরী (২০), মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহী নূরী, মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ অহিদুর রহমান, মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ ধারা, ১৫ বছর (তাজমিনের বয়স), ২০ বছর (রাজুর বয়স), ১২ অক্টোবর, ১১ অক্টোবর, ৬ অক্টোবর, ১৮ বছর (তাজমিনের হোটেলে উল্লেখিত বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!