📌 টাঙ্গাইলের সখীপুরে লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. শাহ জালালের বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ উঠেছে জোর করে জমি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের পেছনে কোটি টাকার জমির লড়াইয়ে বাবা-মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। মামলা আদালতে বিচারাধীন
টাঙ্গাইলের সখীপুরে লন্ডনপ্রবাসী ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ জালালের বিরুদ্ধে তার মা আনোয়ারা বেগম জোর করে জমি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন এবং কোটি টাকার মূল্যের জমির লড়াই। সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মিয়ার পরিবারের মধ্যে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাঙ্গাইলের সখীপুরে লন্ডনপ্রবাসী ডা. শাহ জালালের বিরুদ্ধে তার মা আনোয়ারা বেগম জোর করে জমি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ডা. শাহ জালাল দাবি করেন, পারিবারিক সম্পত্তি ইসলামী ফারায়েজ অনুযায়ী মা-বাবার সম্মতিতে ভাগ করা হয়েছে। তবে আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলে ও ছোট মেয়ের জামাই তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।
- 📌 ডা. শাহ জালালের দাবি, বড় বোনের স্বামী শাহ আলম (ডেসটিনি শাহ আলম) ২০২২ সালে হাইকোর্টের ১২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পেয়েও কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন এবং জমি আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত।
- 📌 সখীপুরে ২৪ শতাংশ জমি এবং মির্জাপুরে ২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ১০৭ শতাংশ জমি বাবা-মা-ছেলের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
- 📌 দলিল বাতিলের মামলা আদালতে বিচারাধীন। আনোয়ারা বেগম দলিল বাতিল চেয়ে মামলা করেছেন এবং মারধরের অভিযোগে ডিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মিয়ার পরিবারের মধ্যে জমি লিখে নেওয়ার বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। ডা. শাহ জালালের মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেছেন, তাঁকে এবং তাঁর স্বামীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন এবং কোটি টাকার মূল্যের জমির লড়াই।
আব্দুর রহমান মিয়া ১৯৮৮ সালে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ২৪ শতাংশ জমি কেনেছিলেন এবং সেখানে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। মির্জাপুরের গ্রামের বাড়িতেও তাঁর ২০০ শতাংশ জমি রয়েছে। ডা. শাহ জালালের বড় মেয়ে রোকসানা পারভীন লিপি কানাডাপ্রবাসী এবং ছোট মেয়ে সুরাইয়া জেবিন রিনা বাবার বাসায় থেকে মা ও অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করতেন।
ডা. শাহ জালালের দাবি, তাঁর বাবা আব্দুর রহমান কানাডাপ্রবাসী বড় মেয়ে রোকসানা পারভীন লিপির স্বামীর হুমকির মুখে মির্জাপুরের ২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ১০৭ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। ডা. শাহ জালাল সম্প্রতি দেশে এসে বাবা-মায়ের সম্মতিতে সখীপুরের সম্পত্তি ইসলামী ফারায়েজ অনুযায়ী ভাগ করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বাসায় থাকা ছোট বোনের নামে এক অংশ, মায়ের দুই আনা অংশ মায়ের নামে এবং অবশিষ্ট অংশ তাঁর নামে হেবা দলিল করা হয়েছে।
ডা. শাহ জালালের মতে, দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ১০ দিন ধরে চলে এবং মা আনোয়ারা বেগম নিজে উপস্থিত থেকে খাজনা-খারিজের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি লন্ডনে ফেরার সময় বিমানবন্দরে বিদায় জানাতেও মা গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলে ও ছোট মেয়ের জামাই তাঁকে এবং তাঁর স্বামীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শাহ জালাল লন্ডন চলে যাওয়ার পর তার ছোট বোন ও বোনের জামাই তাঁদের বের হয়ে যেতে চাপ দিয়েছে।
"তিনি আমার বোনকে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দিয়ে আমার অসুস্থ বাবাকে চাপ দিয়ে মির্জাপুরের ১০৭ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছেন। এর আগেও বাবার পেনশনের ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি দেশে যাই। মায়ের সম্মতিতেই সখীপুরের অবশিষ্ট সম্পত্তি ইসলামী ফারায়েজ অনুযায়ী সুষম বণ্টন করা হয়।"
ডা. শাহ জালালের দাবি, দলিল নিবন্ধনের সময় মা আনোয়ারা বেগম নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি বলেন, "আমি লন্ডন চলে আসার ১২ দিন পর মা বাসা ছাড়েন। তাহলে আমি কীভাবে তাঁদের মারধর করে বাসা থেকে বের করলাম? এখনো বাসার চাবি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিসিটিভি ব্যবহারের সুযোগ এবং বাসা ভাড়ার টাকা মায়ের নিয়ন্ত্রণেই আছে। তাঁরা বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সখীপুর, টাঙ্গাইল; মির্জাপুর, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহ জালাল, আনোয়ারা বেগম, আব্দুর রহমান মিয়া, রোকসানা পারভীন লিপি, সুরাইয়া জেবিন রিনা, শাহ আলম (ডেসটিনি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ শতাংশ (সখীপুর জমি), ২০০ শতাংশ (মির্জাপুর জমি), ১০৭ শতাংশ (বাবা-মা-ছেলের মধ্যে বিরোধিত জমি), ১২ বছর (শাহ আলমের কারাদণ্ড), ৩০ লাখ টাকা (বাবার পেনশন), ১০ দিন (দলিল নিবন্ধন), ১২ দিন (মা বাসা ছাড়ার পর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!