📌 টাঙ্গাইলের খান পরিবারের ছোট ছেলে সানিয়াত খান (বাপ্পা) ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেলেন। এতে প্রথমবারের মতো এই পরিবারের কোনো সদস্য সাজা পেয়েছেন। রায়ে সানিয়াতসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের খান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সাজা পেয়েছেন তাদের ছোট ছেলে সানিয়াত খান (বাপ্পা)। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার জেলা আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো এই পরিবারের কোনো সন্তান সাজা পেয়েছেন। টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ফয়সাল আল মামুন রায় দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **টাঙ্গাইলের খান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে** সানিয়াত খান (বাপ্পা) মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায়।
- 📌 **রায়ে সানিয়াতসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড** এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- 📌 **রফিকুল ইসলাম ফারুক** ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানের ভাই।
- 📌 **খান পরিবারের সন্তানদের বিরুদ্ধে** হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলসহ শতাধিক মামলা থাকলেও এ পর্যন্ত কারো সাজা হয়নি।
- 📌 **২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর** রফিকুল ইসলাম ফারুক শহরের বটতলা বাজারে হত্যা হন। মামলায় সানিয়াতের জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন বলে দাবি করা হয়।
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের খান পরিবার দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও অপরাধিকভাবে আলোচিত ছিল। ১৯৯০ সাল থেকে কাদের সিদ্দিকী ও শামসুর রহমান খানের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শামসুর রহমানের পক্ষে তাঁর ভাতিজারা আমিনুর রহমান খান (বাপ্পি), আমানুর রহমান খান (রানা) ও সহিদুর রহমান খান (মুক্তি) একটি বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী শহরের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ২০০৩ সালে আমিনুর নিহত হওয়ার পর জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও সানিয়াত খান (বাপ্পা) যুক্ত হন তাদের বাহিনীতে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খান পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। আমানুর টাঙ্গাইল-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, সহিদুর টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন, জাহিদুর ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দেন এবং সানিয়াত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি হন। পুরো জেলার ব্যবসা, রাজনীতি ও ঠিকাদারি তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সানিয়াতের বিরুদ্ধে ৪টি হত্যা মামলাসহ ডজনখানেক মামলা থাকলেও এ পর্যন্ত সাজা হয়নি। ২০১৪ সালে রফিকুল হত্যা মামলায় সানিয়াত দেশ ছাড়েন। পরে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় চার ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। ফারুক হত্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর আমানুর ও সহিদুর মুক্ত হন এবং আত্মগোপনে রয়েছেন।
"১০ লাখ টাকার বিনিময়ে সানিয়াত রফিকুল হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, দাইন্যা ইউপি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানিয়াত খান (বাপ্পা), রফিকুল ইসলাম ফারুক, জাহিদুর রহমান খান, আমানুর রহমান খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন মৃত্যুদণ্ড, ৪ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর, ১০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!