📌 টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন ১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা গোপনে পর্যবেক্ষণ করে এই দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন সত্যতা পেয়েছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করে এই দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের লহর উঠেছে এই দুর্নীতির কারণে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকার ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
- 📌 স্থানীয়রা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করে রাতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি নজরে আসে
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করেন
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘সরকারের টাকা দুর্নীতিতে গেলে ব্রিজের নির্মাণে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে’
- 📌 ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকিরের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ‘বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে শাটার বের করার সুবিধার জন্য’
- 📌 বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সত্য, তবে দায়িত্ব জেলা প্রকৌশল দপ্তরের’
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, ‘ঠিকাদার ও স্থানীয়দের জড়িত থাকতে পারে’
📰 বিস্তারিত
বাসাইল উপজেলার বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে নির্মাণাধীন ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজে এই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘আমাদের এলাকার ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা কোথায় গেলো? এভাবে দুর্নীতির কাজ চলছে। ঠিকাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে জড়িত থাকতে পারে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া জানান, ‘ব্রিজের কাজ দিনে করার কথা থাকলেও তারা রাতে কাজ করছে। আমরা রাতে ব্রিজে গিয়ে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি দেখেছি। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকিরের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ‘বড় অংশগুলোতে শাটার দিয়ে কাজ করা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে শাটার বের করার সুবিধার জন্য। এই অংশে বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচা তৈরি করে আমরা ঢালাই করেছি।’
"আমাদের মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, সেখানে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিয়েছে, সেই টাকা তাহলে গেল কোথায়? এভাবে ব্রিজে দুর্নীতি করা হচ্ছে। এই ঠিকাদারের সঙ্গে আরও স্থানীয় কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তা না হলে ঠিকাদার এখানে এসে এভাবে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার সাহস পেতেন না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাসাইল উপজেলা, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইকবাল হোসেন (ইউএনও), শিহাব খানশূর, আজিজ মিয়া, শরিফুল ইসলাম (সুপারভাইজার), মনিরুজ্জামান (সহকারী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ৯০ দশমিক ০৬ মিটার, ৮০ শতাংশ, ২০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!