📌 সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুকে হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। নদীতে মরদেহ উদ্ধারের পেছনে রহস্য বাড়ছে, জুনিয়র বন্ধু দীপের বক্তব্য তদন্তকারীদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মৃত্যুকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। উত্তরখান থানায় তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে নদীতে মরদেহ উদ্ধারের পেছনে রহস্য বাড়ছে, যেখানে জুনিয়র বন্ধু দীপের বক্তব্য তদন্তকারীদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুকে হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
- 📌 ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজে তাহসিফ ও তার বন্ধু দীপকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। পরে তারা আলাদা মোটরসাইকেলে চলে যান।
- 📌 ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তুরাগ নদীতে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাতঘড়ি ও আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
- 📌 ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্তের পর জানাজা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
- 📌 ৩০ অক্টোবর পুলিশ দীপকে হেফাজতে নিয়ে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
- 📌 নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানান, দীপের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মৃত্যুকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে নদীতে মরদেহ উদ্ধারের পেছনে রহস্য বাড়ছে। পরিবারের দাবি, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরে তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান। পরিবারের কাছে দীপ দাবি করেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল মেরামতের পর একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান।
২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তুরাগ নদীতে তাহসিফের মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় টঙ্গী নদী পুলিশ। পরে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ২৯ অক্টোবর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। জানাজা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তাকে সঙ্গে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
"তাহসিফ সাঁতার জানতেন। ফলে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।"
নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম জানান, তাহসিফের বাবা দক্ষিণখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তিনি বলেন, মামলার এজাহারে দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দীপকে মামলায় আসামি করা হয়নি। নৌ পুলিশের প্রধান আরও জানান, দীপ এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনো তাকে দক্ষিণখান থানায় হস্তান্তর কিংবা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, রাজাবাড়ী ঘাট, তুরাগ নদী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি, তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম, জুনিয়র বন্ধু দীপ, নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ অক্টোবর (মামলা দায়ের), ২৭ অক্টোবর (নিখোঁজ), ১৮ (উত্তরা সেক্টর), ৬.৩০ (সন্ধ্যা), ২৮ অক্টোবর (মরদেহ উদ্ধার), ৪.৩০ (বিকেল), ২৯ অক্টোবর (ময়নাতদন্ত), ১২ (কবরস্থান সেক্টর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!