📌 বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় ও অর্থনৈতিক সুবিধা পেলে অপরাধীরা আইনের মুখোমুখি হতে পারে না। তিনি বলেছেন, সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যদি নেপথ্যে নেতৃত্ব দেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার কারণে অপরাধীরা আইনের শাসন থেকে বাঁচতে সক্ষম হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি, ভবন দখল ও ভাঙচুরের মতো অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি ও আশ্রয়দাতাদের ভূমিকা অপরিহার্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাজনৈতিক আশ্রয় ও অর্থনৈতিক সুবিধা** পেলে অপরাধীরা আইনের শাসন থেকে বাঁচতে সক্ষম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. তৌহিদুল হক।
- 📌 **৫ আগস্টের নির্বাচিত সরকার** আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু নীতিনির্ধারকরা পরিবর্তনের কথা মুখে বললেও কাজে তা বাস্তবায়ন করছেন না।
- 📌 **অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক পরিচয় ও আশ্রয়** থাকলে আইন প্রয়োগে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। সরকারের আশপাশের ব্যক্তিরা অপরাধের নেপথ্যে নেতৃত্ব দিলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
- 📌 **সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ** বেরিয়ে আসার কারণে গোপন করার চেষ্টা করলেও সংকট স্বীকার করে সংশোধন করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
- 📌 **তরুণ প্রজন্মের আস্থা** হারাতে চাইলে সরকার পুরোনো রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পারবে না। তারা দীর্ঘদিনের জঞ্জাল ছয় মাসে সরিয়ে ফেলার আশা রাখে না।
📰 বিস্তারিত
মিরপুরের একটি টিকাদান কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, ভবন দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক "স্পনসরড ক্রাইম" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের অপরাধ বাংলাদেশে অনেক পুরোনো এবং অত্যন্ত শক্তিশালী।
অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, "আমাদের ‘অপরাধ-অর্থনীতি’ ক্রমে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। খোলা চোখে আমরা দেখি অপরাধীরা সামনে আছে, কিন্তু তাদের পেছনে আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গোষ্ঠী বা কিছু ব্যক্তি থাকেন। তাঁরা অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি হওয়া থেকে দূরে রাখেন। মামলা হলেও শাস্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন।" তিনি উল্লেখ করেছেন, চাঁদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের নেপথ্যে যাঁরা থাকেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশ্রয়কে সরকার যদি আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এই প্রবণতা বাড়তেই থাকবে।
৫ আগস্টের নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছেন, "নীতিনির্ধারকরা পরিবর্তনের কথা মুখে যতটা স্বীকার করেন, কাজে ততটা বাস্তবায়ন করেন না। অপরাধ একধরনের অব্যবস্থাপনার ফল। আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হলে অপরাধ-সংস্কৃতি বাড়ে।" তিনি আরও বলেছেন, প্রতিটি অব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্থ, রাজনৈতিক সুবিধা এবং ব্যক্তির সুবিধাভোগের বিষয় জড়িত।
অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, "যাঁরা রাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, তাঁরাই যদি নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং সুবিধাভোগী হন, তাহলে সেটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর যেকোনো সমাজে একই পরিণতি ডেকে আনবে।" তিনি আইন প্রয়োগে ঘাটতি দেখিয়ে বলেছেন, "কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কারও বিরুদ্ধে হয় না। আইন প্রয়োগ এভাবে হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়।"
"স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক সরকার থেকে শুরু করে যত সরকার দেখেছি, সবার মধ্যেই সংকট অস্বীকার করার একটা মানসিকতা আছে। এই মানসিকতা জগদ্দল পাথরের মতো দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের পিঠে চেপে বসে। নিজের ও দলের নেতা-কর্মীদের ভুল বা অপরাধ স্বীকার করলে জনপ্রিয়তা কমবে আর বিরোধীরা সমালোচনার সুযোগ পাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মিরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. তৌহিদুল হক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ আগস্ট (নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!