📌 ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসা হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ উদ্দৌলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আপিল বিভাগে খালাসের আবেদন করেছেন। হাইকোর্টের রায়ে ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ উদ্দৌলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আপিল বিভাগে খালাসের আবেদন করেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আসামির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনাগাজী মাদ্রাসা হত্যাকাণ্ড মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ উদ্দৌলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি (জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপি) আপিল বিভাগে খালাসের আবেদন করেছেন
- 📌 হাইকোর্টের ২৪ আগস্টের রায়ে সিরাজ উদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়
- 📌 মামলায় ১০ জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ
- 📌 ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা শ্লীলতাহানি করে, পরে ৬ এপ্রিল তাকে আগুনে জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়
- 📌 নুসরাতের মৃত্যুর ২ দিন পর (১০ এপ্রিল) তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা দায়ের করেন
📰 বিস্তারিত
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ঘটনায় মামলা হলে সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৬ এপ্রিল নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত নুসরাতকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মামলায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আদালত ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। হাইকোর্টের শুনানি শেষে ২৪ আগস্ট রায় দেন। রায়ে সিরাজ উদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্যদের মধ্যে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ে ১০ জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
"আপিল বিভাগে খালাসের আবেদন করা হয়েছে। আমরা আসামিদের পক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।" — মোহাম্মদ শিশির মনির, আসামির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিরাজ উদ্দৌলা (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত), মোহাম্মদ শিশির মনির (আইনজীবী), নুসরাত জাহান রাফি (হতাহত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন আসামি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন; ১০ জন খালাস পেয়েছেন; ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা; ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ঘটনা ঘটে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!