📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মী আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে আরিফ হোসেনের দলীয় সহযোগীরা প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে যুবদল কর্মী তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের অভিযানে ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত শুক্রবার রাত ১১:৩০টায় সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়ে তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- 📌 হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন।
- 📌 পাঁচজন গ্রেপ্তার: আরিফ হোসেন, ফখরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, আরিফুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার।
- 📌 উদ্ধার করা হয় এলজি, রিভলবার ও পিস্তলসহ অস্ত্রসমূহ।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের কারণ: স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশের তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই বলে জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে তারেক হোসেনকে গুলি করা হয়। তার সঙ্গে থাকা মো. ইমনও গুলিবিদ্ধ হন। নিহত তারেক হোসেন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত ইমন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তারেক ও ইমন খাবার খেয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ইমনকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন।
প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তারেক হোসেনকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাকান। অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারেককে আঘাত করেন। ইমন কৌশলে পালিয়ে যান। তারেকের বুকে গুলি করা হয় এবং আরেকজনও তার উপর গুলি ছোড়েন। তারেক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে কাছাকাছি থাকা তাফসির আলম তারেককে উদ্ধারে এগিয়ে এলেও তিনি ও তাফসির দুজনই গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা পালিয়ে যান।
"স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এসব বিষয় স্বীকার করেছেন।"
সীতাকুণ্ড এলাকায় আড়াই শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদনপ্রক্রিয়া শেষে অবশিষ্ট ধাতব অংশ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়। এই ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন (চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, ১২:০০ টা রাতের ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!