📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ২২ বছর বয়সী চন্দনা রানী শীলের লাশ টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে হাত-পা বেঁধে পড়ে থাকতে পাওয়া যায়। পরিবার দাবি করে, স্বামী শিমুলের যৌতুক নির্যাতনের পর হত্যা করেছেন। বাবা-মা অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ের লাশের পাশে আর্তনাদ করছিলেন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এক তরুণীর লাশ হাত-পা বেঁধে পড়ে থাকতে পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বাবা-মা অ্যাম্বুলেন্সের জানালা দিয়ে মেয়ের লাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন। পরিবার দাবি করে, স্বামী যৌতুক নির্যাতনের পর মেয়েকে হত্যা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ বছর বয়সী চন্দনা রানী শীলের লাশ টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে হাত-পা বেঁধে পড়ে থাকতে পাওয়া যায়
- 📌 বাবা তেজেন্দ্র দাশ ও মা আলো বালা দাশ অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ের লাশের পাশে আর্তনাদ করছিলেন: ‘বুকের ভেতর আগলে রেখেছিলাম তোরে’
- 📌 স্বামী শিমুল শীলসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে; হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে
- 📌 পরিবার দাবি করে, বিয়ের পর থেকে যৌতুক নির্যাতনের শিকার ছিলেন চন্দনা
- 📌 পুলিশের ধারণা, নিহতকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয় এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার টেরিয়াইল এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এক নারীর লাশ হাত-পা বেঁধে পড়ে থাকতে পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশের পরিচয় মিলে জানা যায়, তিনি ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দনা রানী শীল (২২)। বাবা তেজেন্দ্র দাশ ও মা আলো বালা দাশ অ্যাম্বুলেন্সে মেয়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। বাবা বলছিলেন, ‘আমি গরিব হলে কী হবে। তোকে তো সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছি। কোনো দিন ফুলের টোকাও লাগতে দিইনি। বুকের ভেতর আগলে রেখেছি। তোকে কীভাবে কষ্ট দিয়ে মারল তারা।’
চন্দনার পরিবার জানায়, তিনি সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা এলাকার বাসিন্দা শিমুল শীলের সাথে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর থেকে চন্দনাকে যৌতুক নির্যাতনের শিকার হতে থাকেন। ঘটনার আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। পরে স্বামী তাকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর এক দিন পর পরিবার জানতে পারলেন চন্দনার মৃত্যু।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ওই নারীকে অন্য কোথাও হত্যার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয় এলাকার একটি জমিতে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার রাজবংশী বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। স্বামী শিমুল শীলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে যৌতুক নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
"আমি গরিব হলে কী হবে। তোকে তো সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছি। কোনো দিন ফুলের টোকাও লাগতে দিইনি। বুকের ভেতর আগলে রেখেছি। তোকে কীভাবে কষ্ট দিয়ে মারল তারা"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চন্দনা রানী শীল (২২), তেজেন্দ্র দাশ, আলো বালা দাশ, শিমুল শীল, মো. আলমগীর, উত্তম কুমার রাজবংশী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!