📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকার সরকারি জমি চাষ করে দখল করে নিলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা বিক্ষোভ করে। চার বিঘা সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হত। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকার সরকারি জমি চাষ করে দখল করে নিলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা বিক্ষোভ করে। চার বিঘা সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হত। দখলকৃত জমি মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকার সরকারি জমি চাষ করে দখল করে নিলে স্থানীয়দের বিক্ষোভ
- 📌 চার বিঘা সরকারি জমিটি ২০১৯ সালে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি ভরাট করা হয়েছিল
- 📌 স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণরা দখলকৃত জমি মুক্ত করে খেলার মাঠ হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানায়
- 📌 জমির মালিকানা নিয়ে হেকমত আলী সরকার ও সলপ ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের মধ্যে বিরোধ
- 📌 উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকার সরকারি জমি চাষ করে দখল করে নিলে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা বিক্ষোভ করে। সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে অবস্থিত চার বিঘা সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হত। বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জমিটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন জানান, চার বিঘা আয়তনের জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ২০১৯ সালে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা জায়গাটিকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
অভিযোগের বিষয়ে হেকমত আলী সরকার জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে সেখানে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।’ জমিটির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি বলে জানিয়েছেন সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। পরে জায়গাটি অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছিল। সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ শাহজাহান আলী দাবি করেন, জায়গাটি খেলার মাঠ নয়। সেখানে সরকারি কিছু জমি রয়েছে, যা এলাকার লোকজন বিভিন্ন সময়ে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং করা মামলা বর্তমানে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
"বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে সেখানে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।"
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, নওকৈড় গ্রামটি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নিজ গ্রাম। তবে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা, নওকৈড় গ্রাম, সলপ ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেকমত আলী সরকার (জামায়াত নেতা), আবুল হোসেন (ওয়ার্ড সদস্য), শওকত ওসমান (প্রাক্তন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান), আবদুল মান্নান (প্রশাসনিক কর্মকর্তা), মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বিঘা (জমির আয়তন), ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৪ আসন (সিরাজগঞ্জ-৪)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!