📌 শেরপুরের উত্তরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীরা বিপদে পড়েছেন। ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ মামলা দায়ের করা হয়েছে
শেরপুর জেলার উত্তরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে চলে যাওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীরা বিপদে পড়েছেন। গৌরীপুর মহল্লায় অবস্থিত এই বেসরকারি হাসপাতালের শতাধিক কর্মচারী, অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, বিপ্লব কাউকে জানিয়ে না চলে যাওয়ায় হাসপাতালে প্রায় ৩০ রোগীসহ কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের উত্তরা হাসপাতালের এমডি যোবায়ের রহমান বিপ্লব ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান, হাসপাতালে সংকট সৃষ্টি
- 📌 ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১ নং সাক্ষী খন্দকার আবিদ হাসান ৫০ লক্ষ টাকা, ২ নং সাক্ষী ডাঃ মবিনা ফেরদৌস ৯ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন
- 📌 হাসপাতালের কর্মচারী ও চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বেতন ও পাওনা পরিশোধে জটিলতা অব্যাহত
- 📌 বিপ্লবের ফেসবুক ভিডিও বার্তায় দাবি, হাসপাতাল দখল করা হয়েছে, কিন্তু জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দাবি করে হাসপাতাল চালু রয়েছে
- 📌 বিপ্লবের হুমকি ও চেটিয়া প্রভাবের কারণে কর্মচারীদের মধ্যে আতংক বিরাজমান
📰 বিস্তারিত
৫ অক্টোবর রাতে হাসপাতালের কর্মচারী, অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের একটি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ উঠে যে, এমডি যোবায়ের রহমান বিপ্লব অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি চলে যাওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারীরা বিপদে পড়েছেন। ৮ অক্টোবর শেরপুর সদর থানায় মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে ২০২৫ সালে বিপ্লব কোম্পানিকে প্রাইভেট লিমিটেড রূপান্তর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকে কর্মচারীদের বেতন, অংশীদারদের লভ্যাংশ ও পাওনা পরিশোধে জটিলতা দেখা দেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মচারী ও অংশীদাররা বিপ্লবের সঙ্গে পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তিন দিন সময় নেন, কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়ে যান। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
হাসপাতালের কর্মচারীরা দাবি করেছেন, বিপ্লবের দায়ের পরিমাণ অন্তত ১০ কোটি টাকা। মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় হলেও বেশ কিছুদিন ধরে সেই অর্থ থেকে কর্মচারী ও অংশীদারদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। বিপ্লবের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালটি দখল করা হয়েছে এবং তিনি জীবনের নিরাপত্তার কারণে সেখানে যাচ্ছেন না। তবে তিনি পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
বিপ্লবের অভিযোগকে অবান্তর বলে মনে করেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি কায়ছার আহাম্মেদ ফারুক ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মহসিন কবির মোরাদ। তারা বলেছেন, বিপ্লব পাওনাদারদের টাকা না দিয়ে গাঢাকা দিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল দখলের কোনো ঘটনা তারা পাননি। শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে হাসপাতালটি চালু রয়েছে এবং বিপ্লব অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্তমানে অনুপস্থিত।
"কর্মচারী ও রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল খোলা রাখা হয়েছে। তিনি ফিরে এলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।"
— ডা. মবিনা ফেরদৌস, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর জেলা শহর, গৌরীপুর মহল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যোবায়ের রহমান বিপ্লব (এমডি), খন্দকার আবিদ হাসান, ডাঃ মবিনা ফেরদৌস, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা (মামলা), ১০ কোটি টাকা (আত্মসাৎ), ৩০ রোগীসহ কর্মচারী, ৫০ লক্ষ টাকা (১ নং সাক্ষী), ৯ লক্ষ টাকা (২ নং সাক্ষী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!