📌 শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের অসদাচরণে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য স্থগিত করে এজলাস ত্যাগ করেন। সাক্ষী হাজিরার জন্য টাকার দাবি ও আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়
শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজিরার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের অসদাচরণে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য স্থগিত করে এজলাস ত্যাগ করেছেন। ঘটনায় সাক্ষী ও মামলার পক্ষের ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করে সময় ও অর্থের অপচয় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাক্ষী হাজিরার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি — অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বাদীকে টাকা দিতে না পারায় নিজে সাক্ষী হাজির করেন অ্যাডভোকেট মিতু আক্তার।
- 📌 বিচারক এজলাস ত্যাগ — বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য না করেই আদালত ত্যাগ করেন।
- 📌 আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অভিযোগ — অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান সাক্ষীদেরকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
- 📌 জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রভাব — অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আদালতসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ।
- 📌 মামলার পটভূমি — নড়িয়া উপজেলার মুক্তা বেগম এলাকার তুহিন সরদারের ছেলে রামিম সরদারের বিরুদ্ধে মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মামলা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজিরার বিষয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান সাক্ষী হাজিরার জন্য বাদীকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা প্রদানের অপেক্ষায় বাদী নিজে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করেন। সাক্ষী হাজিরার পর অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান অ্যাডভোকেট মিতু আক্তারের প্রতি আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিচারকের উদ্দেশেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং সাক্ষীদেরকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য না করেই এজলাস ত্যাগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আদালতসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান দীপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেম বিচারকের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
মামলার পটভূমি জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার মুক্তা বেগম এলাকার তুহিন সরদারের ছেলে রামিম সরদারের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নড়িয়া থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে এই মামলাটি শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
"সাক্ষী হাজিরাকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বিচারক আদালত থেকে নেমে যান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, নড়িয়া উপজেলা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান, বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট মিতু আক্তার, তুহিন সরদার, রামিম সরদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা (টাকার দাবি), ২২ আগস্ট ২০২৪ (মামলা দায়েরের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!