📌 ময়মনসিংহের ফুলপুরের শরিফুল ইসলাম তৃতীয়বারের চেষ্টায় ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। দুইবার ব্যর্থতার পর তিনি ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেন
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চাতুলিয়াকান্দা গ্রামের শরিফুল ইসলাম তৃতীয়বারের চেষ্টায় ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন। সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগে কর্মজীবনের স্বপ্নকে সত্য করে তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের ফুলপুরের শরিফুল ইসলাম ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন
- 📌 ১৬তম ও ১৭তম পরীক্ষায় দু’বার ভাইভা দিয়েও সুপারিশ না পেলেও তিনি হাল ছাড়েননি
- 📌 স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ থেকে বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণে গুরুত্ব দেন
- 📌 প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির ৬০ শতাংশই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে, বলে শরিফুল
- 📌 ‘ভাইভা বুস্টার’ বই অনুসরণ করে ভাইভা প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি
📰 বিস্তারিত
শরিফুল ইসলামের এই সাফল্য নিয়ে লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার। শরিফুল ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চাতুলিয়াকান্দা গ্রামের সন্তান। তিনি ২০১৫ সালে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আইন পড়ার সময় থেকেই বিচার বিভাগে কর্মরত হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।
শরিফুলের প্রস্তুতির কৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাধারণ ও আইন উভয় অংশেই নির্দিষ্ট বই পড়েন। বাংলা অংশের জন্য এমপি থ্রি ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই, ইংরেজির জন্য মৌলিক ব্যাকরণ ও ইংলিশ ফর কম্পিটিটিভ এক্সাম, গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বই এবং সাধারণ জ্ঞানের জন্য মিহির’স ও আলাল’স পড়েছেন। আইন অংশে বেয়ার অ্যাক্টকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি ধারার উপাদান, ব্যতিক্রম ও প্রয়োগ বুঝে পড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধানের উদ্দেশ্য এবং আদালতে এর প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
শরিফুলের মতে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার প্রায় ৬০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পড়লে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেয়ার অ্যাক্টভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহায়ক উপকরণ হিসেবে মিনি ল স্কুলের লিখিত মাস্টার ও বিজেএস লিখিত মাস্টার অনুসরণ করেছেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে আইনের প্রয়োগ বুঝে পড়া এবং নিয়মিত উত্তর লেখার অনুশীলন করা জরুরি। পড়ার সময় নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে ‘এই বিধানটি আদালতে কীভাবে প্রয়োগ হবে?’ এ ছাড়া সাম্প্রতিক আইন, গুরুত্বপূর্ণ রায় ও সাংবিধানিক বিষয়ে হালনাগাদ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
"নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে ধারাবাহিক থাকতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। মূল আইনগ্রন্থকে গুরুত্ব দিয়ে ধারার উপাদান, ব্যতিক্রম ও প্রয়োগ বুঝে পড়া, বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নিয়মিত লিখিত অনুশীলন এবং সাম্প্রতিক আইন, গুরুত্বপূর্ণ রায় ও সাংবিধানিক বিষয়ে হালনাগাদ থাকা জরুরি। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের উপযোগী রুটিন তৈরি করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা, চাতুলিয়াকান্দা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরিফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম বিজেএস পরীক্ষা, ৬০ শতাংশ প্রস্তুতি, ১৬তম ও ১৭তম পরীক্ষা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!