📌 সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্মীয় অবমাননার অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের যুবককে দু’বার মারধর করে হত্যা করা হয়। পরিবার দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং হামলায় রাজনৈতিক দলের নেতাও জড়িত ছিলেন
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্মীয় অবমাননার অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে মারধর করে হত্যা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে প্রথম মারধর হয় তার। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৮ বছর বয়সী ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ধর্মীয় অবমাননার অডিওতে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’বার মারধর করে হত্যা করা হয়
- 📌 সোমবার রাতে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়, পরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন
- 📌 মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, শামীমকে আবারও মারধর করা হয়
- 📌 স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হন তিনি, পরে সাতক্ষীরা মেডিকেলে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 শামীমের ভাই আবদুল জলিল দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন
- 📌 হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) ধর্মীয় অবমাননার অডিওতে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’বার মারধর করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ধর্মীয় অবমাননার তিনটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে আল্লাহ, মহানবী মুহাম্মদ (সা.), সাহাবি ও পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শামীমের পরিবার দাবি, গত সোমবার রাতে একদল লোক তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও হামলা চালায়। এ সময় শামীম নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি তাঁদের। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শামীমকে আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে দেবহাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে শামীমকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাঁকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেছেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি।
শামীমের ভাই আবদুল জলিল দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েছিলেন তাঁর ভাই। এরপর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। আবদুল জলিলের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাও এতে অংশ নেন। পরে শামীম আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ও পরে হাসপাতালে তাঁকে দু’বার মারধর করা হয়।
"গতকাল সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শামীমকে আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেবহাটা উপজেলা, সাতক্ষীরা, সুবর্ণাবাদ গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮), আবদুল জলিল, ডা. শরিফুল ইসলাম, ওসি এইচ এম শাহীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর বয়স, ১৩ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!