📌 নেত্রকোনার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা সীমান্তে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের হত্যাকাণ্ডে পুলিশ তদন্তে শামীম আহমেদ ও তাজুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। আলিফের স্বজন জানান, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল আগেও
নেত্রকোনার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের হত্যাকাণ্ডে পুলিশ তদন্তে সীমান্তের দুর্গাপুর-কলমাকান্দার অপরাধজগতের দুজন পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। সাংবাদিক আলিফের স্বজন ও সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পিছনে শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার শামীম’ ও তাজুল ইসলাম ওরফে ‘কিলার তাজুল’-এর ভূমিকা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশেই গুলি করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে।
- 📌 পুলিশের তদন্তে শামীম আহমেদ ও তাজুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। শামীমকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাজুলকে শুটার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
- 📌 শামীমের বিরুদ্ধে ৩০টি, তাজুলের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে — অধিকাংশই হত্যাসংক্রান্ত।
- 📌 আলিফের মা জোবেদা আক্তার মানববন্ধনে হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে কাঁদছেন।
- 📌 আলিফের স্বজন জানান, আগেও তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকায় অপরাধজগতের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করতেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতেন। সীমান্ত এলাকার অপরাধীদের তথ্য প্রকাশের কারণে আলিফকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশেই গুলি করে হত্যা করা হয় আলিফকে। পুলিশের তদন্তে শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার শামীম’ ও তাজুল ইসলাম ওরফে ‘কিলার তাজুল’-এর নাম উঠে এসেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাজুলকে শুটার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শামীমের বিরুদ্ধে ৩০টি, তাজুলের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে — অধিকাংশই হত্যাসংক্রান্ত। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, শামীমের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা সহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযোগ রয়েছে।
তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্রের কারবার, ডাকাতি ও সীমান্তে চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১২ সালে একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছর সাত মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। পরে তিনি পলাতক ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে কলমাকান্দা উপজেলা থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ওই সময় তাঁকে শুধু নতুন অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল এবং আগের মামলা ও সাজার তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
আলিফের স্বজন ও সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অন্তত দুইবার আলিফকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর শহরে আলিফের মতো দেখতে পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আলিফের স্বজন জানান, ওই ঘটনার পর তখনকার পুলিশ সুপার ফয়েজ আহম্মেদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। পরে ধর্ষণসহ দুটি মামলায় আলিফকে গ্রেপ্তার এবং কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৫ সালে ওই দুটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
"আলিফের স্বজন ও সহকর্মীদের ভাষ্য, একাধিকবার আলিফকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন তিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির, শামীম আহমেদ, তাজুল ইসলাম, জোবেদা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ অক্টোবর (হত্যাকাণ্ডের তারিখ), ৩০টি (শামীমের মামলা), ১৫টি (তাজুলের মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!