📌 রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের স্বজনদের পছন্দসই নিয়োগের কারণে ১৮১ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র কিছুজনকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ও অভিযোগকর্তারা উচ্চ আদালতে যাবার হুমকি দিয়েছেন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের যথাযথ আবেদন ও শর্ত পূরণের পরেও ক্ষমতাসীন দলের স্বজনদের পছন্দসই নিয়োগের কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিযোগকর্তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের ১৮১ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র কিছুজনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
- 📌 অভিযোগ: ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজনদের পছন্দসই নিয়োগে বৈষম্য, ব্যবসায়ীদের বাদ দেয়া হয়েছে
- 📌 রায়হান সিরাজী: "ওপর থেকে কার চাপ? সেটাও ইউএনওকে ক্লিয়ার করা প্রয়োজন"
- 📌 ইউএনও জেসমিন আক্তার: নিয়োগ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না দিয়েছেন, কল ও বার্তা উত্তর দেননি
- 📌 অভিযোগকর্তারা উচ্চ আদালতে যাবার হুমকি দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী জানান, তিনি দেশে না থাকলেও ইউএনওকে বলেছিলেন যাচাই-বাছাই কমিটিতে সব ধরনের লোককে রাখার জন্য। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমাদের দলের দুজনকে রাখেন, বিএনপির দুজনকে রাখেন যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নিয়োগ পান।’ কিন্তু ইউএনও বলেছেন, ‘ওপর থেকে অনেক চাপ আপনাদের কাউকে রাখা যাবে না।’ সিরাজী প্রশ্ন করেন, ‘ওপর থেকে কার চাপ? কিসের চাপ?’
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার ৯টি ইউনিয়নের ১৮১ জন আবেদনকারী ছিল। গত শুক্রবার জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির প্রস্তাবিত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। আবেদনকারীদের অভিযোগ, তারা যথাযথ আবেদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলেও তালিকায় স্থান পাননি। কিন্তু তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের স্বজনদের নাম রয়েছে। যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শনে তাদের গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে ইউএনওর কার্যালয়ে যাওয়ার পর তারা বাদ পড়েন।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের আবু সায়েম মিন্টুসহ অর্ধশতাধিক আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলা হয়। তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই সরকার নির্ধারিত শর্ত মেনে আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর গুদামঘর পরিদর্শন করা হয়, তখন কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। কিন্তু কাগজপত্র ইউএনওর কার্যালয়ে যাওয়ার পর সবকিছু পাল্টে যায়। তারা দাবি, এভাবে নিয়োগ দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে। যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা কখনোই ব্যবসা করেননি।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত না হলে অভিযোগকর্তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি এবং ইউএনও জেসমিন আক্তারের মোবাইল ফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি বা উত্তর দেননি।
"আমি দেশে ছিলাম না, তবুও আমি ইউএনওকে বলেছিলাম যাচাই-বাছাই কমিটিতে সব ধরনের লোককে রাখার জন্য। প্রয়োজন হলে আমাদের দলের দুজনকে রাখেন, বিএনপির দুজনকে রাখেন যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নিয়োগ পান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়হান সিরাজী, শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, আবু সায়েম মিন্টু, ইউএনও জেসমিন আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮১ জন আবেদনকারী, ৯টি ইউনিয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!