📌 রংপুরের ১০ তলা আদালত ভবনে ৩০টি আদালত থাকলেও মাত্র দুটি লিফটের কারণে প্রতিদিন দুই হাজার বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী সিঁড়ি বেয়ে চলাচল করছেন। বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য লিফটের অভাবে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুরের ১০ তলা মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ৩০টি আদালতের জন্য মাত্র দুটি লিফটের কারণে প্রতিদিন দুই হাজার বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীর চলাচল দুর্বহ হয়ে পড়েছে। এই দুটি লিফটের মধ্যে একটি শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য বরাদ্দ থাকায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য লিফটের সম্পূর্ণ অভাব সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের ১০ তলা আদালত ভবনে ৩০টি আদালতের জন্য মাত্র দুটি লিফট রয়েছে
- 📌 লিফটের একটি শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য বরাদ্দ, সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য কোনো লিফট নেই
- 📌 প্রতিদিন দুই হাজার বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী সিঁড়ি বেয়ে চলাচল করছেন
- 📌 ৮৫ বছর বয়সী মমতাজ উদ্দিন ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেমা বেগম লিফট পাননি, সিঁড়ি বেয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন
- 📌 আইনজীবী আফসানা শারমিন বলেছেন, ৩০ জন বিচারকের জন্য ছয়টি লিফটের দরকার ছিল, কিন্তু মাত্র দুটি ছোট লিফট দেওয়া হয়েছে
- 📌 লিফট দুটি প্রায় সময় সময় বিকল হয়ে পড়ে, মেরামতের পরও দীর্ঘদিন স্থায়ী সমাধান হয়নি
📰 বিস্তারিত
রংপুর আদালত চত্বরে অবস্থিত ১০ তলা মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে রংপুরের ৮টি উপজেলার আদালত ছাড়াও মেট্রোপলিটন আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, বিদ্যুৎ আদালত ও সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ অন্তত ৩০টি আদালত রয়েছে। প্রতিদিন এখানে অন্তত দুই হাজার বিচারপ্রার্থীর সমাগম ঘটে।
লিফটের সংখ্যা অপর্যাপ্ততার কারণে প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরা বিশেষভাবে আক্রান্ত। বদরগঞ্জের ৮৫ বছর বয়সী মমতাজ উদ্দিন লাঠিতে ভর দিয়ে এসেও লিফটে জায়গা পাননি। তাকে সিঁড়ি বেয়ে ৫ তলায় উঠে হাজিরা দিতে হয়। হাজিরা শেষে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লিফট না পেয়ে আবার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়। তিনি বলেছেন, ‘সাড়ে ১০টায় এসে ১১টায় শুনানি ছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও লিফটে জায়গা মেলেনি। বাধ্য হয়ে অনেক কষ্টে ৫ তলায় উঠলাম, বয়স ও অসুস্থতার কারণে সারা শরীর কাঁপছিল।’
শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেমা বেগমের বিচারক বসেন ৭ তলায়। একবার কোনোমতে উপরে উঠলেও শুনানি শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়েছে তাকে। আইনজীবী বায়েজীদ ওসমানী জানান, বিদ্যুৎ আদালতে ১০ তলায় মামলা ছিল। লিফটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও জায়গা পাননি। বিচারক আসনে বসে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে হেঁটেই তাকে উপরে উঠতে হয়। তিনি বলেছেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। ১০ তলায় সুস্থ মানুষও এভাবে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন না।’
আইনজীবী আফসানা শারমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘১০ তলা এই ভবনে ৩০ জনের বেশি বিচারক বিচারকাজ পরিচালনা করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও ভবনটি নির্মাণের সময় অপরিকল্পিত নকশা করা হয়েছে। যেখানে অন্তত ছয়টি বড় আকারের লিফট দরকার, সেখানে মাত্র দুটি ছোট লিফট দিয়ে এত মানুষের চলাচল অসম্ভব। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।’
"আমি বয়স্ক মানুষ। ১০ তলায় সুস্থ মানুষও এভাবে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের ১০ তলা মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ উদ্দিন (৮৫), আলেমা বেগম, বায়েজীদ ওসমানী, আফসানা শারমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি আদালত, ২টি লিফট, ১০ তলা, ৮টি উপজেলা, ২ হাজার+ বিচারপ্রার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!