📌 'সন্ত্রাসী' রায়হান ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রাম পুলিশের দু’জন কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষের গ্রুপ তাঁকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করছে এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু রায়হানকে ধরতে পারছেন না
চট্টগ্রামের 'সন্ত্রাসী' মো. রায়হান ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলামকে সতর্কবার্তা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য প্রতিপক্ষের গ্রুপ দু’জন পুলিশ সদস্যকে রাতে হত্যার পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের 'সন্ত্রাসী' রায়হান ফেসবুক পোস্টে এসপি ও ওসিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, দাবি করেছেন প্রতিপক্ষের গ্রুপ তাঁকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করছে
- 📌 রায়হান দাবি করেছেন, তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্যরা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিচ্ছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অপব্যবহার হচ্ছে
- 📌 পুলিশের অভিযান অব্যাহত, কিন্তু রায়হানকে ধরতে পারছেন না — তিনি রাউজানের দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন
- 📌 রায়হানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইন অন্তর্ভুক্ত
- 📌 রায়হান ৩ সেপ্টেম্বর রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমের হত্যার পরও ফেসবুকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছেন
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের 'সন্ত্রাসী' মো. রায়হান গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফেসবুকে একটি পোস্টে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলামকে সতর্কবার্তা দিয়ে লিখেছেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য প্রতিপক্ষের গ্রুপ দু’জন পুলিশ সদস্যকে রাতে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তিনি দাবি করেছেন, 'আজিজ আর ডাকাত গ্রুপ' এই পরিকল্পনায় জড়িত। রায়হান আরও দাবি করেছেন, তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্যরা সুবিধা নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেছেন, রাউজানে যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করবে। এখানে কেউ কারও নাম ব্যবহারের সুযোগ নেই।
রায়হান এর আগেও ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন। দুই দিন আগে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, 'একমাত্র কাছের মানুষের মাধ্যমে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঘুরে দাঁড়াতে কারও কাছে মাথা নত করব না। সময় হলে সব হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেব।' ১২ সেপ্টেম্বর দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, 'ছিলাম সামাজিক, বানিয়ে দিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী। আড়ালের রায়হান কত খারাপ, তা বুঝিয়ে দেব।' গত ২০ আগস্টও তিনি ফেসবুকে 'ওয়েট অ্যান্ড সি' লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন।
৩ সেপ্টেম্বর রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমের হত্যার পরও রায়হান ফেসবুক স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি, ওই ভিডিও কখন ধারণ করা হয়েছিল।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রায়হান রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবস্থান শনাক্তকরণ এড়াতে। ওই এলাকায় যানবাহনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ নেই এবং মুঠোফোন নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই নোয়াখালীর সেনবাগে একটি বাসার ছাদ থেকে পুলিশি অভিযান টের পেয়ে রায়হান পালিয়ে যান। রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
"আমার অ্যান্টি গ্রুপগুলো আমাকে ফাঁসানোর জন্য অনেক রকমের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা রাতে ডিউটি করে তাদের মধ্যে থেকে দুজন পুলিশ নাকি মারতে হবে—হয় নাতোয়ান বাগিচা, না হয় পূর্ব রাউজান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম জেলা, রাউজান থানা, নোয়াখালী জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রায়হান, এসপি মো. মাসুদ আলম, ওসি সাইফুল ইসলাম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি মামলা, ৫টা ৪৫ মিনিট, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২৯ জুলাই
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!