📌 রাজশাহীর ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্ত আসামি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে থাকায় ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় সতর্কতা জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
রাজশাহীর একটি ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্ত আসামি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট সতর্কতা জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের এই ঘটনা ন্যায়বিচারের পথে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে থাকেন
- 📌 ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় সতর্কতা জানিয়ে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে
- 📌 ২০২২ সালের ১ অক্টোবর নাটোরের মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের ১৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল
- 📌 ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে, অপহরণের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর আসামি জামিনে মুক্তি পান, এরপর থেকে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ধর্ষণ আইন সংস্কার জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জোটের ভাষ্য, ভুক্তভোগীর প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামির এ ধরনের হুমকি জামিনের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে মারাত্মক অন্তরায়।
জোটের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৩২খ(১) ধারা অনুযায়ী, তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী অথবা সাক্ষীকে নিরাপত্তা বা সুরক্ষা দিতে ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আদেশ ও ব্যবস্থা নিতে পারেন।
২০২২ সালের ১ অক্টোবর মাধ্যমিকের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে নাটোরের গুরুদাসপুরের মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একই বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রায় ১১ মাস কারাবাসের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন সাক্ষ্য না দিতে এবং মামলাটি চালিয়ে না যেতে ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
"ভুক্তভোগীর প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামির এ ধরনের হুমকি জামিনের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে মারাত্মক অন্তরায়। এই অবস্থায় ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবার ও সাক্ষীদের সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল), নাটোর (মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট, আসামি (প্রধান শিক্ষক), ভুক্তভোগী (১৫ বছর বয়সী ছাত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২খ(১) (আইন ধারা), ১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ বছর, ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১০ বছর, ২০ হাজার টাকা, ১১ মাস, ২৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!